📌 রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াত নেতা আতাউর রহমানের মেয়ের সঙ্গে স্কুলছাত্রের প্রেমের অভিযোগে তাকে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ভয়ে থানায় অভিযোগ করেনি। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত নেতা আতাউর রহমানের মেয়ের সঙ্গে স্কুলছাত্রের প্রেমের অভিযোগে তাকে রাতভর গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে নির্যাতনের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ভয়ে এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্রকে রাত ৯টার দিকে ধরে নিয়ে গাছের সঙ্গে হাত বেঁধে মারধর করা হয়, জ্ঞান হারানোর পরও নির্যাতন অব্যাহত থাকে
- 📌 জামায়াত নেতা আতাউর রহমান (৩ নম্বর ওয়ার্ড সহসভাপতি) ও তার স্বজনদের নেতৃত্বে ঘটনাটি ঘটে সুজারকুঠি গ্রামে
- 📌 নির্যাতনে অংশ নেন জামায়াত নেতার স্বজনসহ কয়েকজন নারী, ভুক্তভোগীর স্বজনদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যেতে বাধ্য করা হয়
- 📌 পীরগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক জানান, অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্ত শুরু হয়নি, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ দরকার
- 📌 আতাউর রহমান দাবি করেন, ‘মিথ্যা অভিযোগ’ এবং ‘ওই ছাত্রকে একটু শাসন করেছি’
📰 বিস্তারিত
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতাউর রহমান টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৬ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক থাকার অভিযোগে আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা ছাত্রকে ধরে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ছাত্র জ্ঞান হারিয়ে পড়লেও তাকে মারধর করা হয়। নির্যাতনে অংশ নেন জামায়াত নেতার স্বজনসহ কয়েকজন নারী। খবর পেয়ে ছাত্রের স্বজনরা সেখানে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। রাতভর নির্যাতনের পর রোববার ভোরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের ডেকে ছাত্রকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আতাউর স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা পুরো ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য অব্যাহত হুমকির মুখে রয়েছেন। তবে নিরাপত্তার আশঙ্কায় পরিবারের কেউই এখনও থানায় অভিযোগ করেননি। এদিকে রোববার সকাল থেকে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পীরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আতাউর রহমান ঘটনাটি সম্পর্কে বলেন, ‘আমি জামায়াতের রাজনীতি করি। আমি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রকে একটু শাসন করেছি আমরা।’ টুকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। রাতে সেখানে ছিলাম। পরে অসুস্থতার কারণে সেখান থেকে চলে এসেছি।’
"আমি জামায়াতের রাজনীতি করি। আমি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। ওই ছাত্রকে একটু শাসন করেছি আমরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুজারকুঠি গ্রাম, টুকুরিয়া ইউনিয়ন, পীরগঞ্জ উপজেলা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আতাউর রহমান (জামায়াত নেতা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সহসভাপতি), ১৬ বছর বয়সী ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র, পীরগঞ্জ থানার ওসি মো. নাজমুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর (ছাত্রের বয়স), ১৭ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ), ৯ টা (নির্যাতনের সময়), ৩ নম্বর ওয়ার্ড (জামায়াতের সহসভাপতি পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!