📌 রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের ১১ একর জমি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দখলে থাকা অবস্থায় বাণিজ্যিক আড়ত ও বস্তি গড়ে উঠেছে। ১৬৫০ কোটি টাকার এই জমিতে দখলকারীদের সাথে রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচটি রিট মামলা থাকা সত্ত্বেও জমি উদ্ধারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর ১১ একর জমি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দখলে থাকা অবস্থায় বাণিজ্যিক আড়ত, বস্তি ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই জমির মূল্য প্রায় ১৬৫০ কোটি টাকা। জমিটি দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজউকের ১১ একর জমি দখলে ২১ বছর পেরিয়ে গেছে, বাজারদর অনুযায়ী মূল্য ১৬৫০ কোটি টাকা
- 📌 জমিতে মাছ, মুরগি ও বাঁশের আড়তসহ বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে, প্রতি মাসে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়
- 📌 পাঁচটি রিট মামলা থাকা সত্ত্বেও জমি উদ্ধারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগ
- 📌 জমিতে সাইনবোর্ডে মোহাম্মদ শরীফ ভূইয়া ও বাবু চন্দ্র দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের দাবি করা হয়েছে জমির আমমোক্তা
- 📌 মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতি থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা জমা নেওয়ার অভিযোগ, সদস্যদের দোকান দেওয়ার আশ্বাস না পূরণ
📰 বিস্তারিত
রাজউকের নিজস্ব এই জমি দখল করে সেখানে মাছ, মুরগি ও বাঁশের আড়তসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলে চলেছে বাণিজ্য। জানা গেছে, জমিটি দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এ জমিকে কেন্দ্র করে পাঁচটি রিট মামলা হয়েছে। তবে ২১ বছরেও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় জমিটি কার্যত দখলেই রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জমি উদ্ধারের কার্যক্রমও থমকে আছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, ১৯৬২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাড্ডা মৌজায় সিএস দাগের ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের এলএ কেস নম্বর ১৩৮/৬১-৬২-এর আদেশ অনুযায়ী একই বছরের ২৫ এপ্রিল জমিটির দখল ডিআইটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ডিআইটির নাম পরিবর্তন করে রাজউক করা হয়।
জমিটি দখলে রাখার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। একই বছর রাজউকের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্টরা হাইকোর্টে আরেকটি রিট করেন। এরপর ২০০৭ সালে মেরুল কাঁচাবাজার সমিতিও রিট মামলা করে। পর্যায়ক্রমে জমিটি নিয়ে রাজউকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি রিট মামলা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রামপুরা ব্রিজ থেকে কিছুটা দূরে মূল সড়কের পাশেই রয়েছে বাঁশের বড় আড়ত। এর পরেই মেরুল কাঁচাবাজার। সেখানে একটি টিনের ঘরে ‘মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতি ও মেরুল সোনার বাংলা মৎস্য আড়ত’-এর কার্যালয় রয়েছে। এর পাশে গড়ে উঠেছে বড় একটি বস্তি। ১১ একর জমির আশপাশে রয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও মেরুল বায়তুল জামে মসজিদ।
"রাজউকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য রিট মামলা রয়েছে। মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা আছে। রাজউকের অনেক কর্মকর্তা কাজ করতে চান না এবং কাজ না করলেই তাদের লাভ—এমন মন্তব্যও করেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেরুল বাড্ডা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী, রোকন উদ-দৌলা, মোহাম্মদ শরীফ ভূইয়া, বাবু চন্দ্র দাস, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৫০ কোটি টাকা (জমির মূল্য), ১১ একর (জমির পরিমাণ), ২১ বছর (দখলের সময়কাল), ৩০০ কোটি টাকা (জমা নেওয়া অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!