📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি' পরিচয়ে ফোন করে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ তদন্তে সিমটি মাদারীপুরের রেজাউল করিমের নামে নিবন্ধিত পেয়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি' পরিচয়ে ফোন করে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গত ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ তদন্তে সিমটি মাদারীপুরের রেজাউল করিমের নামে নিবন্ধিত পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি' পরিচয়ে ফোন করে হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন মতিহার থানায় জিডি করেন।
- 📌 হুমকি দেওয়া ব্যক্তি নিজেকে 'সিরাজ শিকদারের ভাই' হিসেবে পরিচয় দেন এবং মাদারীপুরের সিম ব্যবহার করে কল করেন।
- 📌 সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসকে 'পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি—সর্বহারা' পরিচয়ে কল করে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আমলে কারাগারে যাওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য টাকা দাবি করা হয়।
- 📌 ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনও এমন কল পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও শিক্ষকদেরও কল এসেছে বলে জানা গেছে।
- 📌 পুলিশ ফোন নম্বরটি ট্র্যাক করে দেখেছে, কলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি' পরিচয়ে ফোন করে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গত ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন। তিনি জানান, একজন অপরিচিত ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সদস্য' এবং 'সিরাজ শিকদারের ভাই' হিসেবে পরিচয় দেন। ফোনে ওই ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন এবং না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেন।
অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি পরিচয়ে আমাকে ভয়, হুমকি ও কিছু চাঁদা দাবি করা হয়। আমি বলেছি, শিক্ষক মানুষ, পকেটে টাকা থাকে না। আপনাদের যখন প্রয়োজন হবে ফোন দিয়েন, কত টাকা এবং কীভাবে নেবেন। এরপর তারা বলেছে, পুলিশ, র্যাব বা কাউকে কিছু বলে লাভ হবে না। আমাদের কথা না শুনলে রাজশাহীতে কিন্তু এ রকম ঘটনা আরও ঘটেছে। আপনার মাথায় তো রিভলবার ঠেকিয়ে বলা হচ্ছে না, এত লাখ দেন; আপনি বলুন কত দেবেন?’
নাট্যকলা বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, তিনি ৬ সেপ্টেম্বর জিডি করেন। পুলিশ ফোন নম্বরটি ট্র্যাক করে দেখেছে, কলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছে। অন্য একটি মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, সিমটি রেজাউল করিম নামে একজনের নামে নিবন্ধিত। এটি এত বেশি প্রচার হয়েছে যে এখন বেশি আতঙ্কিত বোধ করছেন।
সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসকে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি—সর্বহারা থেকে শিমুল বিশ্বাস পরিচয়ে কল করে বলা হয়, গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আমলে তাঁদের অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে গেছেন। তাঁদের মুক্তির জন্য টাকা দিতে হবে, না দিলে হুমকি দেওয়া হয়।
ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকেও সর্বহারা পরিচয়ে ফোন করলে তিনি বেশি কথা না বাড়িয়ে ফোন কেটে দেন। পরে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষকের কাছে এমন কল এসেছে।
"শিক্ষক মানুষ, পকেটে টাকা থাকে না। আপনাদের যখন প্রয়োজন হবে ফোন দিয়েন, কত টাকা এবং কীভাবে নেবেন। এরপর তারা বলেছে, পুলিশ, র্যাব বা কাউকে কিছু বলে লাভ হবে না। আমাদের কথা না শুনলে রাজশাহীতে কিন্তু এ রকম ঘটনা আরও ঘটেছে। আপনার মাথায় তো রিভলবার ঠেকিয়ে বলা হচ্ছে না, এত লাখ দেন; আপনি বলুন কত দেবেন?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মতিহার থানা, মাদারীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস, আবদুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ সেপ্টেম্বর, ৮ সেপ্টেম্বর, ১৭ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!