📌 রাজবাড়ীর পাংশায় ধর্ষণ মামলায় আসামি ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন আদালত। আদালত সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব দিয়েছে ২১ বছর পর্যন্ত
রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় আসামি ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও আদালত সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করে রাজবাড়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজবাড়ী পাংশায় ধর্ষণ মামলায় আসামি ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন আদালত
- 📌 জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আসামিকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
- 📌 ভুক্তভোগীর সন্তানকে ফারুক হোসেনের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন আদালত
- 📌 সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় ২১ বছর পর্যন্ত রাষ্ট্র বহন করবে
- 📌 আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি ২০১৮ সালের ৩০ মে ধর্ষণ করে, পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে
📰 বিস্তারিত
রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তৌহিদুল ইসলাম রোববার (১১ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করেন। আসামি ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। আদালতে উপস্থিত না থাকলেও তার বিরুদ্ধে মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফারুক ২০১৮ সালের ৩০ মে কুষ্টিয়ার খোকসা রেলস্টেশন সংলগ্ন আত্মীয়ের বাসায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে নিয়ে যান। পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় দুই মাস অবস্থানকালে ধর্ষণ করা হয়। গর্ভবতী হওয়ার পর ফারুক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। পরে নারী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার বিচার শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফারুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এছাড়াও শিশুটিকে ফারুক হোসেনের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
"আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ এবং সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার নির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে।"
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজবাড়ী পাংশা উপজেলা, নিশ্চিন্তপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারুক হোসেন (আসামি), মো. তৌহিদুল ইসলাম (বিচারক), জাহিদ উদ্দিন মোল্লা (পাবলিক প্রসিকিউটর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর (সন্তানের ভরণপোষণ), ৫ লাখ টাকা (জরিমানা), ১১ অক্টোবর (রায় ঘোষণা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!