📌 সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিন প্রত্যাখ্যানের দাবি তুলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে। পুলিশের দাবি, তিনি সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে। রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত নেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতকে জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ২০২৫ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার হিসেবে অভিযুক্ত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৬ বছর বয়সী অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত।
- 📌 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, তিনি ২০২৫ সালের ১৮ মে গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- 📌 পুলিশের দাবি, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আদর্শ সমর্থন, সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং অপরাধের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।
- 📌 আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন চেয়ে বলেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে মিথ্যা অভিযোগে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।
- 📌 ২ অক্টোবর পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন দাখিল করেন। আদালত জামিন প্রত্যাখ্যান করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
- 📌 গত ১১ মার্চ পুলিশ অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে, পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
📰 বিস্তারিত
আজ বুধবার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতকে জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ২০২৫ সালের ১৮ মে রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত ছাত্রদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার এবং শিক্ষক নামের কলঙ্ক।
অসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন চান। তিনি বলেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। পুলিশের দাবি, তদন্তে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
"আসামি শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার।"
— রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (পল্টন থানা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত), গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন (৫৬), রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন, আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার, পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ বছর (জামাল উদ্দিনের বয়স), ২ অক্টোবর (আবেদন দাখিল), ১৮ মে ২০২৫ (নাশকতার ঘটনা), ১৪০-১৫০ জন (পালিয়ে যাওয়া), ১১ মার্চ (পুলিশ গ্রেপ্তার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!