📌 কারাগারে বন্দীদের অসুস্থতা ও চিকিৎসা সংকটে ৫ বছর ৯ মাসে ১২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মারা যান ৩০০ জন। বর্তমানে কারাগারে বন্দী সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি, ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার
কারাগারে বন্দীদের অসুস্থতা ও চিকিৎসা সংকটে ৫ বছর ৯ মাসে ১২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মারা যান অন্তত ৩০০ জন। বর্তমানে দেশের কারাগারে বন্দী সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি, যেখানে কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৫ হাজার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ বছর ৯ মাসে (২০২১-২৮ সেপ্টেম্বর) কারাগারে ১২৩৫ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ৩০০ জন হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মারা গেছেন
- 📌 গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো আবু তাহের (৩৪) মৃত অবস্থায় পৌঁছেছেন
- 📌 বর্তমানে কারাগারে বন্দী সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার, ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬
- 📌 ৭৫টি কারাগারে মাত্র ১৪৮টি চিকিৎসক পদ অনুমোদিত, কিন্তু স্থায়ী চিকিৎসক মাত্র ২ জন
- 📌 কারা অধিদপ্তর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৫১ জন বন্দীর মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে
📰 বিস্তারিত
কারাগারে বন্দীদের মৃত্যু ও হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ফারুক জানান, গতকাল রাত সোয়া ৯টায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ থেকে অসুস্থ অবস্থায় আবু তাহেরকে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি মৃত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছেছেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২৩৫ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জন হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মারা গেছেন। বর্তমানে কারাগারে বন্দী সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি, যেখানে কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৫ হাজার ১৮৬।
স্বজনদের অভিযোগ, কারাগারগুলোতে বন্দীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়। অসুস্থতা থাকলেও যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকের মৃত্যু হয়। কারা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, চিকিৎসা সুবিধার স্বল্পতা ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে বন্দীদের মৃত্যু বাড়ছে। ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, বন্দী সংখ্যা বাড়ার কারণে মৃত্যু বাড়ছে।
কারাগারে বন্দীদের চিকিৎসার জন্য ৭৫টি কারাগারে মাত্র ১৪৮টি চিকিৎসক পদ অনুমোদিত, কিন্তু স্থায়ী চিকিৎসক মাত্র ২ জন। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক সংকটের কারণে অসুস্থ বন্দীদের হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় দেরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গুরুতর অসুস্থ বন্দীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সময় যানজটের কারণে অন্তত তিন ঘণ্টা লেগে যায়।
"কোনো মৃত্যু কাম্য নয়। বর্তমানে বন্দীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যু বেড়ে গেছে।" — কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোলাম ফারুক, আবু তাহের (৩৪), কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৩৫ জন (মোট মৃত্যু), ৩০০ জন (হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মৃত্যু), ১ লাখ ৬ হাজার (বর্তমান বন্দী সংখ্যা), ৪৫ হাজার (ধারণক্ষমতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!