📌 পাবনার ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা কিশোরীর লাশ ঝিনাইদহের নিঝুম খাতুনের (১৭) বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আদালতে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, বিয়ে চাপ দেওয়ায় নিঝুমকে হত্যা করা হয়েছিল
১৮ মাসের রহস্যের পর ঝিনাইদহের নিঝুম খাতুনের (১৭) হত্যা রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা অর্ধগলিত কিশোরীর লাশ ঝিনাইদহের মহেশপুরের নিঝুমের বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার কথিত প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আজ মঙ্গলবার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের নিঝুম খাতুনের (১৭) লাশ ১৮ মাস পর শনাক্ত; পাবনার ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল অজ্ঞাতনামা লাশটি
- 📌 মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আদালতে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন; নিঝুমকে বিয়ে চাপ দেওয়ায় হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি
- 📌 ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ নিঝুম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান; ১৭ মার্চ পাকশী এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছিল অর্ধগলিত লাশ
- 📌 পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, জিম নিঝুমকে পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান; মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়
- 📌 মাশরিকুল রহমান জিমের মা মো. কামাল হোসেনের ছেলে; ২০ সেপ্টেম্বর জামিন বাতিলের পর গ্রেপ্তার হন
- 📌 নিঝুমের মা তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন
📰 বিস্তারিত
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিঝুম খাতুনের (১৭) লাশ ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ পাবনার ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেলস্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় না মিলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু আজ মঙ্গলবার তার কথিত প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে চাপ দেওয়ায় নিঝুমকে হত্যা করেন জিম।
তদন্তে জানা গেছে, ১৩ মার্চ নিঝুম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। সেদিন তিনি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জিম তাকে পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ে নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর নিঝুমকে মারধর করা হয়। পরে রেললাইনের পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জিম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
নিঝুম মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মা তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মাশরিকুল রহমান জিমের নাম উল্লেখ করে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি। এ মামলায় জিম জামিনে ছিলেন। পরে মামলার তদন্তে নামে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
তদন্তের একপর্যায়ে মাশরিকুল রহমান জিমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্তকারী দল পাকশী এলাকায় গিয়ে জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সেখান থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটে সংরক্ষিত মরদেহের ছবি সংগ্রহ করা হয়। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে সেটি নিঝুমের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন জিম।
"জিম জামিনে ছিলেন। তদন্তে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে হাজিরা দিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।"
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) হিমানিষ বিশ্বাস বলেছেন, জিমকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিঝুম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আজ আদালতে জিম হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঈশ্বরদী (পাবনা), মহেশপুর (ঝিনাইদহ), পাকশী রেলস্টেশন এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাশরিকুল রহমান জিম (২৩), নিঝুম খাতুনের (১৭), তাসলিমা খাতুন, মো. কামাল হোসেন, উপ-পুলিশ পরিদর্শক হিমানিষ বিশ্বাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ মাস, ১৭ মার্চ ২০২৫, ১৩ মার্চ ২০২৫, ২৩ বছর, ৮ এপ্রিল ২০২৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!