📌 পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার জমিদার মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, পায়রা বন্দর প্রকল্পের অধিগ্রহণ জমির ক্ষতিপূরণের নামে শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও আবদুল্লাহ আল মামুন তার কাছ থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, তাদের ভয় দেখিয়ে চেক স্বাক্ষর বাধ্য করা হয় এবং অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে
পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার দু’জন কর্মকর্তা জমিদারকে ভয় দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত থাকার সন্দেহে অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগে জানানো হয়েছে, পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও আবদুল্লাহ আল মামুন তার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালী এলএ কর্মকর্তারা রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ
- 📌 অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও মামুন তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলনের চেকে স্বাক্ষর বাধ্য করেছেন
- 📌 অভিযোগকারীকে অপহরণ করে ৩ দিন ঢাকার সায়েদাবাদে রাখা হয়, পরে পুলিশ উদ্ধার করে
- 📌 রফিকুলের বিরুদ্ধে মামুনের দেওয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে
- 📌 শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে চেকসংক্রান্ত মামলা চলমান পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও আবদুল্লাহ আল মামুন তার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত করেছেন। রফিকুলের মতে, তার বেশ কিছু জমি পায়রা বন্দর প্রকল্পের অধিগ্রহণের আওতায় রয়েছে। মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে পারেননি তিনি। মামলা নিষ্পত্তির পর ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএ শাখায় যোগাযোগ করলে শাহাবুদ্দিন ও মামুন তার সাথে পরিচয় হয়। তারা তাকে এলএ শাখার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে ৬০ হাজার টাকায় বিষয়টি করার কথা বলা হয়। রফিকুলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে ফাইলের আপত্তি নিষ্পত্তির কথা বলে আরও অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাকে পটুয়াখালী শহরের ছোট চৌরাস্তা এলাকায় শাহাবুদ্দিনের ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফাইলের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য তার কাছে ৯ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হলে তিনি তা পরিশোধ করেন। এরপর বিভিন্ন ধাপে আপত্তি নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শাহাবুদ্দিন ও মামুন তার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের চেক প্রস্তুত হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে ডেকে নেওয়া হয়। তার জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং স্ত্রীর কাগজপত্র নেওয়া হয়। পরে পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় তার নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। একই ব্যাংকে আবদুল্লাহ আল মামুনও একটি হিসাব খোলেন। তার নামে খোলা ব্যাংক হিসাবের চেকবইও মামুন নিয়ে নেন। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কয়েক দিন পটুয়াখালীতে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রফিকুল। এছাড়া মামুন তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা বলে আরেকটি চেকে স্বাক্ষর নেন এবং নিজের হিসাবের একটি চেক তাকে দেন। পরে ওই চেকের মাধ্যমে তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শাহাবুদ্দিন ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে তাকে সম্মতি দিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন রফিকুল।
"আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালী (কলাপাড়া উপজেলা, পটুয়াখালী শহর, ঢাকা সায়েদাবাদ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রফিকুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকা, ৯ লাখ টাকা, ৪০ লাখ টাকা, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!