📌 বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩৭টি মবের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৫৬ জন নিহত ও ৫৭৫ জন আহত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে, সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে মবের ঘটনা বাড়ছে। সাতক্ষীরায় ফেসবুক লাইভ মারধরে মৃত্যু ঘটার মতো ঘটনায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে থাকা সত্ত্বেও মবের ঘটনা বন্ধ হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫৩৭টি মবের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৫৬ জন নিহত ও ৫৭৫ জন আহত হয়েছে। এসব ঘটনার পিছনে সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫৩৭টি মবের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৫৬ জন নিহত ও ৫৭৫ জন আহত হয়েছে
- 📌 সাতক্ষীরায় ফেসবুক লাইভ মারধরে শামীমের মৃত্যু ঘটায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে
- 📌 রাজধানীর একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের নাম উঠেছে
- 📌 মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মবের ঘটনা ছিল ৪২৮টি, ২০২৪ সালে ১৬৯টি
- 📌 ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১৭১ জন, যা ২০২৪ সালের ১২৮ জনের তুলনায় বেড়েছে
- 📌 সরকার ও বিরোধীদল উভয়েই মবের ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে একের পর এক মবের ঘটনা ঘটছে। ধর্মের নামে খুন, ব্যক্তিস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়া, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় ও আদালতেও মবের ঘটনা ঘটছে। বিশেষত সাতক্ষীরায় ফেসবুক লাইভ মারধরে শামীমের মৃত্যু ঘটায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এর আগেই রাজধানীর একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের নাম উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫৩৭টি মবের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫৬ জন নিহত ও ৫৭৫ জন আহত হয়েছে। গত বছর মবের ঘটনা ছিল ৪২৮টি, আর ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ১৬৯টি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবের ঘটনা প্রকট হয়ে ওঠে, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সময় তা কমে আসার আশা ছিল। কিন্তু পরিসংখ্যান দেখায়, সেই আশা গুঁড়ে বালি।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১৭১ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ জন আর গত বছর ছিল ১৯৮ জন। অর্থাৎ মবের ঘটনা বন্ধ হয়নি, বরং কখনও কখনও বেড়েছে সেই প্রবণতা।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সম্পত্তি দখলের জন্য মব তৈরির ঘটনাগুলোতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়। অন্যদিকে ধর্মকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি সংগঠনটির মনিটরিং রিপোর্টে উঠে এসেছে।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের। তারা বলেছে, যেকোনো ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
"কোনো একটা নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠী করছে, এরকম নয়। বলা যায় সব ঘরানারই সমর্থক বা লোকজন এখানে যুক্ত আছে"
এনিয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি – এইচআরএসএস'র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা বা দলের সিদ্ধান্তে মবের ঘটনা ঘটার কোনো তথ্য সংগঠনটির কাছে না থাকলেও এসব ঘটনায় কোনো না কোনো রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক সংশ্লিষ্টতা কম বেশি দেখা গেছে।
"আমাদের মনিটরিং রিপোর্ট বলে তৌহিদি জনতার নামে মূলত জামায়াত এগুলো করে। জামায়াতের মদদপুষ্ট কিছু কিছু এনসিপির লোকও এতে আছে। যাদের অনেকেই মাদ্রাসায় চাকরি করে কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডটা হলো শিবির অথবা জামায়াত"
সাইদুর রহমান আরও বলেছেন, মবের ঘটনায় বিরোধী দল জামায়াত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। তারা কোনো প্রেস রিলিজও দেয় না, কোনো প্রেস কনফারেন্সও করে না।
"এগুলো নিয়ে জামায়াত কোনো কথা বলে না। কোনো প্রেস রিলিজও দেয় না, প্রেস কনফারেন্সও করে না। কোনো ঘৃণাও প্রকাশ করে না, থামানোর জন্য সরকারকে বলে না, নিজেরাও থামায় না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা, রাজধানী (স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইদুর রহমান (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন), ইজাজুল ইসলাম (এইচআরএসএস), শামীম (মৃত্যু), জামায়াত নেতাকর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩৭টি মবের ঘটনা, ২৫৬ জন নিহত, ৫৭৫ জন আহত, ৪২৮টি (২০২৫), ১৬৯টি (২০২৪), ১৭১ জন (২০২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!