📌 ময়মনসিংহে দুদক পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, জাহানারা খানমের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসংগতি রয়েছে
ময়মনসিংহে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি ময়মনসিংহ জেলা দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দায়ের করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারা খানমের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসংগতি পাওয়া গেছে, যা দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞা ও স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে।
- 📌 জাহানারা খানমের ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৭ টাকার সম্পদে ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪২ টাকা নিট সম্পদ পাওয়া গেছে, যা তাঁর ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
- 📌 ফখরুদ্দীন ভূঞা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত, পূর্বে ময়মনসিংহের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
- 📌 দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারা খানমের চরপাড়া এলাকার সৌহার্দ্য টাওয়ারের ফ্ল্যাটে বসবাস সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।
- 📌 মামলায় দুর্নীতি দমন আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে স্বামীর অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের সঙ্গে জ্ঞাত আয়ের উৎসের অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, জাহানারা খানমের ২০২৩-২৪ করবর্ষের আয়কর নথি অনুযায়ী তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল মাত্র ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা, কিন্তু তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা। এই হিসাব বিবেচনায়, তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারা খানমের সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ পেয়েছিলেন। ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি তাঁর পক্ষে স্বামী ফখরুদ্দীন ভূঞা সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেন। পরে ১০ মার্চ জাহানারা খানম নিজের নামে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের সঙ্গে তাঁর ঘোষিত সম্পদের মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকে আরও জটিল করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
"জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি তাঁর পক্ষে স্বামী ফখরুদ্দীন ভূঞা সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেন।" — দুদকের অনুসন্ধান দল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ জেলা দুদক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগ, ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা (পুলিশ পরিদর্শক), জাহানারা খানম (স্ত্রী), ইব্রাহিম খলিল (দুদকের উপসহকারী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা (অবৈধ সম্পদ), ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৭ টাকা (সম্পদ), ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪২ টাকা (নিট সম্পদ), ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা (ঘোষিত আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!