📌 পাবনার সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী একটি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক স্বীকার করেছেন যে, মাগরিবের নামাজ শেষে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা করা হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মোস্তফা আগে থেকেই শিশুটির পরিবারের সঙ্গে মিশে ছিলেন এবং সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন
পাবনার সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী একটি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করে ১৫ মিনিটের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটে ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ইয়াসিন ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, মোস্তফা সহযোগিতা চেয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক স্বীকার করেছেন, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করে ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা করা হয়।
- 📌 ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় শিশুটি, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- 📌 মোস্তফা স্বীকার করেছেন, দুজন মিলে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন, কিন্তু ইয়াসিন আলী নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
- 📌 তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায় বলেছেন, মোস্তফার মোবাইল ফোনে শিশুটির অসংগতিপূর্ণ ছবি পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে মিশে ছিলেন এবং সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন।
- 📌 ৯৯ শতাংশ তদন্ত শেষ, বাকি ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কিছু পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
📰 বিস্তারিত
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের একটি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করে ১৫ মিনিটের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটে ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ইয়াসিন ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, মোস্তফা সহযোগিতা চেয়েছিলেন।
৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় বলেছেন, মরদেহ উদ্ধারের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, মোস্তফার আচরণে সন্দেহ তৈরি হয় এবং তিনি কাঁপতে শুরু করেন যখন একজন স্থানীয় সদস্য তাঁর হাত ধরেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর মোস্তফা নিহত শিশুটির বাবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে গভীর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেন। এমনকি শিশুটির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই অবস্থান করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
"ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার ভাইকে নিয়ে আমার দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় আমি তাঁর মোবাইল ফোনে শিশুটির অসংগতিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির ছবি তোলেন। পরে ফোনটি পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয়।"
তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় আরও বলেছেন, মোস্তফার মোবাইল ফোনে তাঁর দোকানে আসা বিভিন্ন উঠতি বয়সী ছোট মেয়েরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, এতে তাঁর আগের আচরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তিনি আগে থেকেই দুশ্চরিত্র ব্যক্তি। মামলার তদন্তকাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। আজ সোমবার নিহত শিশুর সব আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে, ধর্ষণের ঘটনায় দুজন জড়িত ছিলেন, নাকি একজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনার সদর উপজেলা, কুলুনিয়া গ্রাম, দোগাছী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা প্রামাণিক, ইয়াসিন আলী, এসআই বেনু রায়, নিহত শিক্ষার্থী (১০ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ মিনিট (হত্যার সময়), ১০ বছর (শিশুর বয়স), ৯৯ শতাংশ (তদন্ত শেষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!