📌 পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংসের পর বিক্ষুব্ধরা মাটি লুট করে নিচ্ছে। প্রশাসন মামলার তদন্ত শেষ না করায় স্বজনদের ক্ষোভ বাড়ছে
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংসের পর বিক্ষুব্ধরা মাটি পর্যন্ত লুট করে নিচ্ছে। বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুটির স্বজনরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোস্তফা কামালের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস: ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িটি ভাঙচুরের কাজ চলছে, ফাউন্ডেশনের রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
- 📌 মাটি লুটের ঘটনা: শ্রমিক সলিম প্রামাণিক বেলন বলেছেন, মোস্তফার বাড়ির মাটি নিয়ে পুকুর তৈরি করবেন।
- 📌 বিক্ষুব্ধদের দাবি: ধর্ষক ও খুনির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না, বাড়ির ইট ও বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
- 📌 মামলার তদন্ত বিলম্ব: শিশুটির দাদা বলেছেন, চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় প্রশাসনের গাফিলতির প্রশ্ন তুলেছেন।
- 📌 পুলিশের প্রতিক্রিয়া: পাবনা জেলা পুলিশের ডিবি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে।
📰 বিস্তারিত
গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাড়ি ভাঙচুরের কাজ এখনো চলমান। ২৪ অক্টোবর শনিবার দুপুরে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফাউন্ডেশনের রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া রুবেল হাসান বলেন, ‘ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালিও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে। নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে—ধর্ষকের পরিণতি কী হয়, সেটি বোঝানোর জন্য।’
শিশুটির দাদা বলেন, ‘এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এত দিনে চার্জশিট দিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।’ শিশুটির আরেক স্বজন বলেন, ‘দোতলা বাড়ি একে একে ভাঙা হচ্ছে, কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই। অথচ এখনো মামলার কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়নি বলে শুনছি। এতদিনে তো বিচার শুরু হওয়ার কথা।’
প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
"মোস্তফা যে পাপ করেছে, তার শাস্তি হিসেবে তাঁর বাড়িটি আমরা রাখিনি। এখন তাঁর বাড়ির মাটি নিয়ে গিয়ে আমরা রাস্তায় দিচ্ছি, বাড়ির প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছি।"
"ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালিও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা সদর উপজেলা, দোগাছি ইউনিয়ন, কুলোনিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা কামাল, সলিম প্রামাণিক বেলন, রুবেল হাসান, শিশুটির দাদা, পুলিশের ওসি আব্দুস সালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (শিশুর বয়স), ১৮ সেপ্টেম্বর (বাড়ি ভাঙা শুরু), ২৪ অক্টোবর (বাড়ি ভাঙা চলমান), ৯ সেপ্টেম্বর (শিশু নিখোঁজ), ১৬ সেপ্টেম্বর (শিশুর মরদেহ উদ্ধার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!