📌 নোয়াখালীর সুবর্ণচর প্রবাসী মো. বাহারকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দুবাই নিয়ে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তা দাবি করছেন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব পালনের জন্য বাহারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে দুবাই নিয়ে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী মো. বাহারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তা দাবি করছেন, বাহার তাকে বিয়ে করার কথা বলে দুবাই নিয়ে যান এবং সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে গর্ভধারণের খবর গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয় এবং সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোয়াখালী সুবর্ণচর প্রবাসী মো. বাহারকে অভিযোগ: বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নারীকে দুবাই নিয়ে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করা
- 📌 ভুক্তভোগী মুক্তার সাত মাস বয়সী সন্তান অসুস্থ, চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারছেন না বাহার
- 📌 ২০১৪ সালে বাহার ওষুধ খাইয়ে মুক্তার আরেকটি সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ
- 📌 বাহার তাকে বাগেরহাটে পাঠিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করেন
- 📌 মুক্তা দাবি: বাহারকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি
- 📌 বাহারের প্রথম স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার না করে ক্ষোভ প্রকাশ, বিষয়টি সুবর্ণচর যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন
- 📌 চরজব্বর থানায় এখনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, ওসি রফিকুল হাসান বলেছেন: অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালী প্রতিনিধি: মুক্তা জানান, বাহার তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে দুবাই নিয়ে যান এবং সেখানে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও আনুষ্ঠানিক বিয়ে না করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে দেশে ফেরার পর তাকে বাগেরহাটের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন বাহার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ব্লক করে দেন বলে অভিযোগ করেন মুক্তা।
মুক্তা আরও জানান, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী বাহার ওষুধ খাইয়ে তার আরেকটি সন্তান নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, বাহারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি মা ও সন্তানের কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বাহার তাকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।
মুক্তা বলেন, তিনি সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার জন্য ১৪ লাখ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করেন, সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই এবং প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক।
"আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। সত্য প্রকাশ পাক। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে, সেটিই আমার দাবি।"
বাহারের প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারীকে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তার স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের জন্য ওই নারীই দায়ী এবং এসব অভিযোগের কারণে তার সংসারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। বাহারের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান, তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী বাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী মুক্তা বর্তমানে সন্তানের ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুবর্ণচর উপজেলা, নোয়াখালী; বাগেরহাটের বাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসমা আক্তার মুক্তা, মো. বাহার, বেলাল হোসেন সুমন, রফিকুল হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ মাস (সন্তানের বয়স), ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৪ লাখ টাকা, ১২ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!