📌 নীলফামারী জেলার নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম (২৪) ঢাকার বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের প্রাইভেট কার চাপায় মারা যান। পরিবার মামলা চালানোর সামর্থ্য না থাকায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেছে। দুর্ঘটনায় আসামি হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) ও ১৭ বছর বয়সী আযান আলী শরীফকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
নীলফামারী: নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম (২৪) ঢাকার বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের একটি প্রাইভেট কার চাপায় মারা যাওয়ার ঘটনায় তার পরিবার মামলা চালানোর সামর্থ্য না থাকায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেছে। মামলার বাদী মো. মোক্তাদীর ইসলাম (মেহেদীর সৎভাই) ও মালিকপক্ষের সঙ্গে এই অর্থনৈতিক সমঝোতা সম্পন্ন করেছেন। মামলা প্রত্যাহার ও আসামিদের জামিনে আপত্তি না জানানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানানো হয়, মেহেদীর বাবা এরশাদুল হক ও মামা খায়রুল ইসলাম আপসনামায় সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা: মেহেদীর পরিবার মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া ও আসামিদের জামিনে আপত্তি না জানানোর বিনিময়ে ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য, বাকি ৮ লাখ টাকা মেহেদীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে।
- 📌 মেহেদী শ্রবণ-বাক্প্রতিবন্ধী: মেহেদী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। বাক্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতেন।
- 📌 দুর্ঘটনার বিস্তারিত: গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। দ্রুতগতির প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়।
- 📌 দুই আসামি জামিনে মুক্ত: মামলায় আকাশ মারক (৪৪) ও ১৭ বছর বয়সী আযান আলী শরীফকে আসামি করা হয়। আযানের জামিন আবেদনে বলা হয়, তিনি দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিলেন। তবে তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
- 📌 সমাজের ক্ষোভ: স্থানীয়রা বলেন, টাকার বিনিময়ে মামলা সমাধান করায় দোষীদের শাস্তি না দেওয়া দিন দিন অপরাধ বৃদ্ধি করবে।
📰 বিস্তারিত
নিহত মেহেদী হাসান মীমের পরিবার মামলা চালানোর সামর্থ্য না থাকায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেছে। মামলার বাদী মো. মোক্তাদীর ইসলাম (মেহেদীর সৎভাই) জানান, মেহেদী বা তার বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দিতেন না এবং পরিবার নিয়ে আলাদা থাকত। বাক্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও মেহেদীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে এই সমঝোতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঢাকায় গিয়ে মামলা চালানোর মতো সামর্থ্য এই পরিবারের নাই। এখন পর্যন্ত টাকা তাদের হাতে আসেনি, তবে পরবর্তীতে কোনো ঝামেলা হবে না।”
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু পরে তার মৃত্যু হয়। মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের হাজীপাড়ার এরশাদুল হকের ছেলে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জানাজা শেষে নিজ এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয় মেহেদীর।
মামলায় মেহেদীর বড় ভাই মো. মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেট কার চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেওয়া হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের একজনকে আসামি করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ বছর বয়সী আযান আলী শরীফকে ওই মামলায় আইনের সংস্পর্শে আনা হয়।
"আমাদের পরিবারে সবার মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারন ঢাকায় গিয়ে মামলা চালানোর মতো সামর্থ্য এই পরিবারের নাই।" — মেহেদীর চাচা রাকিবুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোন, ঢাকা; নীলফামারী জেলা, ডোমার উপজেলা, সোনারায় গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান মীম (২৪), মো. মোক্তাদীর ইসলাম, আকাশ মারক (৪৪), আযান আলী শরীফ (১৭), রাকিবুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ লাখ টাকা (সমঝোতা), ১ লাখ টাকা (দাফন-কাফন), ৮ লাখ টাকা (ভবিষ্যতের জন্য), ২৪ বছর (মেহেদীর বয়স), ১৭ বছর (আযানের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!