📌 নেত্রকোনা কলমাকান্দায় ভুয়া তথ্যে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি এনআইডি তৈরির মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ২ জন কর্মকর্তাকে
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির মামলায় পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া ও চাকরিচ্যুত কম্পিউটার অপারেটর কাঞ্চন মিয়া।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ জন আসামি: রংছাতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ মঞ্জুরুল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, আরিফ মিয়া, স্মরণ সরকার হীরা, ওমর আলী, মোকসেদ আলী ও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
- 📌 ২ জন গ্রেপ্তার: পুলিশ কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে মঞ্জুরুল মিয়া ও কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।
- 📌 ভুয়া এনআইডি: রোহিঙ্গা নাগরিক নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমানের ভুয়া তথ্যে এনআইডি তৈরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- 📌 সিসিটিভি প্রমাণ: অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
📰 বিস্তারিত
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া (২৫) ও চাকরিচ্যুত ডেটা-এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া (২৯)কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ও এনআইডি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন।
মামলায় আসামিরা হলেন: রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল (৬৪), উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া (২৫), নির্বাচন অফিসের চাকরিচ্যুত ডেটা-এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া (২৯), আরিফ মিয়া (৩৪), স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০), ওমর আলী (৪৯) ও মোকসেদ আলী (৪৪)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই রোহিঙ্গাদের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং সার্ভারে তথ্য আপলোডের কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তথ্য যাচাই ও সরেজমিন তদন্তে ভুয়া তথ্যে ভোটার হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমান নামের দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার বাদী হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান (৩১ মার্চ যোগদান) মামলা দায়ের করেছেন। গত ২ মার্চ তিনি কলমাকান্দায় যোগ দেন। এর আগে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্তের নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ৩১ মার্চ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গাকে ভোটার করার সত্যতা মিললে গত ২০ জুলাই কাঞ্চন মিয়া, আরিফ মিয়া ও স্মরণ সরকার হীরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
"আমাদের ওয়েবসাইটে ওই দুজনের কোনো তথ্য নেই। তাঁরা বাইরে থেকে জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন বানিয়ে নিয়েছেন।"
— মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, মো. মঞ্জুরুল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, জিল্লুর রহমান, মো. সোহেল রানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ জন আসামি, ২ জন গ্রেপ্তার, ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!