📌 নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, দুজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে গুলি করে পালিয়ে যায়। নিহত ব্যক্তি দুর্নীতি ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন এবং আগেও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একজন সাংবাদিককে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজন অপরিচিত ব্যক্তি নিহত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির, যিনি 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং সেখানে দুর্নীতি ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। এছাড়া, তিনি বেসরকারি একটি আইপিটিভি চ্যানেলে নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে পাঁচটি গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
- 📌 নিহত ব্যক্তি 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং সেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন।
- 📌 আগেও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং লেখালেখির কারণে তিনি নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
- 📌 দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি একাধিকবার লুৎফুজ্জামানকে সতর্ক করেছিলেন। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ।
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানিয়েছেন, লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির দুর্গাপুরের তেলনজিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরে একটি চায়ের দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির চায়ের দোকানে চা পান করার পর ছয়টি সিগারেট কিনেছিলেন। সেসময় আরও দুই অপরিচিত ব্যক্তি ওখান থেকে সিগারেট কেনেন। পরে লুৎফুজ্জামান আলিফ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গ্রামীণ পথ ধরে শ্বশুরবাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলে ওই দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচটি গুলি করা হয়েছে।
প্রথম আলোর স্থানীয় সাংবাদিক পল্লব চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দোকানদার রবিন রাংছার বরাত দিয়ে বলেছেন, 'ফকির ওখানেই বসে। গতকাল দোকান থেকে বের হয়ে ১০ ফুটের মতো হেঁটে গেছে। তখনই গুলি করলো।' দোকানদার পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে ভয় পেয়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। ঘটনাস্থলটি দুর্গাপুর থানা থেকে সর্বোচ্চ এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
"বাসার সামনেই দোকান। তখন একজন লোক এসে বললো, তোমার জামাইর এই অবস্থা। গিয়ে দেখি, একা লাশ পড়ে আছে। আর কোনো মানুষ নাই।"
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী আনন্দিতা সংমার মা শিলা সংমা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "ছয়টা গুলি করছে। মাথায়, গলায়, পেটে। এর বিচার যেন আমি পাই। এই দুইটা বাচ্চা নিয়ে আমি এখন কী করবো," কান্না করতে করতে বলছিলেন তিনি। তিনি দাবি করেছেন, "মোবাইলটা চেক করলে বোঝা যাইবো যে ও কার সঙ্গে কথা বলছিলো, কার সাথে তর্ক-বিতর্ক হইছিলো। ওর মোবাইল তো এখন পুলিশের হাতে।" তার দাবি, কোনো একটি সংবাদ প্রকাশের পর নিহত ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে কারা সেই হুমকি দিয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির, খন্দকার শাকের আহমেদ (ওসি), শিলা সংমা (নিহত ব্যক্তির শাশুড়ি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (গুলির সংখ্যা), ৬ (সিগারেটের সংখ্যা), ১০ (ফুট), ৮ (টার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!