📌 এনবিআরের অভিযানে রাজধানীর গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৩৭ লিটার অনুমোদনহীন মদসহ ২৩০ পিস লিকার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা লাইসেন্সের অনিয়ম ও বৈধ নথিপত্রের অভাবও উন্মোচন করেছেন
রাজধানীর গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার চারটি বার ও রেস্টুরেন্টে এনবিআরের যৌথ অভিযানে ৬৩৭ লিটার অনুমোদনহীন মদসহ ২৩০ পিস লিকার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া এনবিআরের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা লাইসেন্সের অনিয়ম, বৈধ আমদানির নথিপত্রের অভাব ও মদ মজুদের বিরুদ্ধে জব্দকৃত পণ্যগুলো উন্মোচন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৩০ পিস লিকার** জব্দ: গুলশানের ফুয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ২৩০ পিস অনুমোদনহীন লিকার জব্দ করা হয়, যা একটি কাভার্ড ভ্যানে রেস্টুরেন্টের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
- 📌 **৬৩৭ লিটার মদ** জব্দ: চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬৩৭ লিটার অনুমোদনহীন মদসহ ৬০৮ লিটার লিকার জব্দ করা হয়, যার মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার ছিল দেশীয় উৎপাদিত।
- 📌 **লাইসেন্সের অনিয়ম**: তেজগাঁওয়ের হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালের বারটি হোটেলের নিজস্ব নামে লাইসেন্স করা নেই, বরং অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে লাইসেন্স করা রয়েছে।
- 📌 **নথিপত্রের অভাব**: কোনো প্রতিষ্ঠানই বৈধ আমদানির নথিপত্র দেখাতে পারেনি, যার মধ্যে জিনসেং ও জাফরানও অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 **অভিযানের নেতৃত্ব**: কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিবরণ দেন।
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকায় এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এতে গুলশানের ফুয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, উত্তরের মার্গারিটা লাউঞ্জ, তেজগাঁওয়ের হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালের বার এবং গুলশানের ‘র ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট’-এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৩০ পিস অনুমোদনহীন লিকার, ৬৩৭ লিটার অনুমোদনহীন মদসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করা হয়।
গুলশানের ফুয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ২৩০ পিস লিকার জব্দের সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন ছাড়া আমদানি করা জিনসেং এবং প্রায় এক কেজি জাফরানও জব্দ করা হয়। অভিযানকারীরা দেখেন যে, লিকারগুলো একটি কাভার্ড ভ্যানে করে রেস্টুরেন্টের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই মুহূর্তে অভিযানকারীরা গাড়িটি আটকিয়ে লিকারসহ পণ্যগুলো জব্দ করেন।
উত্তরের মার্গারিটা লাউঞ্জ থেকে ৬০৮ লিটার অনুমোদনহীন মদ ও লিকার জাতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। এদের মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার ছিল দেশীয় উৎপাদিত। তবে এই ৩৬ লিটার ক্রয়ের নথিপত্রও যথাযথ ছিল না। বাকি সবই ছিল অনুমোদনবিহীন বিদেশি মদ। তেজগাঁওয়ের হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালের বারটি হোটেলের নিজস্ব নামে লাইসেন্স করা নেই। বারের লাইসেন্সটি হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। এছাড়া, নারকোটিক্স অধিদপ্তরের অনুমোদনের কোনো নথিপত্রও তারা দেখাতে পারেনি।
গুলশানের ‘র ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ থেকে ২৯ লিটার অনুমোদনবিহীন লিকার জব্দ করা হয়। এছাড়া, অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা লাইসেন্সের অনিয়ম ও বৈধ নথিপত্রের অভাব উন্মোচন করেন। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিবরণ দেন।
"অভিযানে আমরা দেখেছি যে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুমোদনহীন মদ মজুদ রয়েছে এবং লাইসেন্সের অনিয়মও রয়েছে। এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা হয়নি এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই যথাযথ নথিপত্র দেখাতে পারেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুলশান, উত্তরা, তেজগাঁও (রাজধানী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিজভী আহমেদ (কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩৭ লিটার (অনুমোদনহীন মদ), ২৩০ পিস (লিকার), ৬০৮ লিটার (লিকার জাতীয় পণ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!