📌 নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর বিএনপি নেতৃত্বে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে গুরুতর আহত করে। ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি নেতৃত্বে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল বক্তাবলী ইউনিয়নের বাজারে। ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলামের অভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে তাঁর ওপর চাপাতি ও এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফতুল্লা মডেল থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের বাজারে এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
- 📌 ১০ থেকে ১৫ জন হামলাকারী ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
- 📌 হালিম আজাদ নেতৃত্বে তাঁর ভাই ইয়াসিন আরাফাত, নয়ন, ইমন, জুয়েল ও আবুল খায়েরসহ ৫ জন হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত।
- 📌 গুরুতর আহত তৌহিদুল ইসলামকে খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- 📌 বিএনপি নেতা হালিম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে দূরে ছিলেন।
- 📌 পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ফতুল্লা মডেল থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের বাজারে সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ইটভাটার জন্য প্রভাবশালীদের অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার জানান, বিকেলে বক্তাবলীতে দলের একটি ঘরোয়া বৈঠক ছিল। বক্তাবলী ঘাটে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা দলের নেতাকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন যে, প্রভাবশালীরা নির্বিচারে মাটি কেটে নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলের নেতাকর্মীরা পুলিশ ফাঁড়িতে যান এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যায় তৌহিদুল ইসলামকে একা পেয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, হালিম আজাদের নেতৃত্বে তাঁর ভাই ইয়াসিন আরাফাত এবং সহযোগী নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়েরসহ কয়েকজন চাপাতি ও এসএস পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছোট ভাই তাঁকে রক্ষা করতে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির বলেছেন, এনসিপির এক নেতার ওপর হামলার খবর শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন যে, তাঁদের দলের হালিম আজাদ নাকি এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি এখনও বিস্তারিত জানতে পারেননি এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে হালিম আজাদ বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি সারাদিন বক্তাবলী থেকে অনেক দূরে ছিলাম। পরে শুনেছি এনসিপির তৌহিদের সঙ্গে স্থানীয়দের কী একটা ঝামেলা হয়েছে। অথচ এই ঘটনায় আমাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেছেন, ‘হামলার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
"হালিম আজাদের নেতৃত্বে তাঁর ভাই ইয়াসিন আরাফাত এবং সহযোগী নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়েরসহ কয়েকজন চাপাতি ও এসএস পাইপ দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছোট ভাই আমাকে রক্ষা করতে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফতুল্লা মডেল থানা, বক্তাবলী ইউনিয়ন, নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদ (ভুক্তভোগী), হালিম আজাদ (অভিযুক্ত নেতা), জুবায়ের সরদার (জেলা এনসিপি আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ সেপ্টেম্বর, ১০-১৫ জন হামলাকারী, ৩০০ শয্যা হাসপাতাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!