📌 ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুই বছরের শিশু ওয়াসকুরুনিকে বিষ পান করিয়ে হত্যার সৎমা আকলিমা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সতিনের ছেলে হওয়ায় শিশুটিকে ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করতে হত্যা করেছেন। শিশুটির বাবা আবদুল কাদির ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিষ পান করিয়ে হত্যার ঘটনায় সৎমা আকলিমা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সতিনের ছেলে হওয়ায় শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলামকে ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করার উদ্দেশ্যে বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছেন। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে শিশুকে বিষ পান করানো হয় এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আকলিমা আক্তার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন
- 📌 শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলামকে বিষ পান করিয়ে হত্যার জন্য সৎমা ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করার দাবি করেছেন
- 📌 শিশুটির বাবা আবদুল কাদির ও সৎমা আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; বাবাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে
- 📌 শিশুটির মা শেফালী বেগম অভিযোগ করেছেন, তাঁকে না জানিয়ে সৎমাকে আসল মা সাজিয়ে লাশ গোপনে দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাহমিনা আক্তারের সামনে আকলিমা আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান ও গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলামের হত্যাকাণ্ডে দায় স্বীকার করে সৎমা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, আকলিমা আক্তার বলেছেন, সতিনের ছেলে হওয়ায় শিশুটিকে নিজের পথের কাঁটা মনে করতেন তিনি। নিজের ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করার উদ্দেশ্যে তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার গৌরীপুর উপজেলার বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে শিশু ওয়াসকুরুনিকে বিষ পান করানো হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা শেফালী বেগম লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ শিশুটির বাবা আবদুল কাদির ও সৎমা আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। শেফালী বেগম অভিযোগ করেছেন, তাঁকে না জানিয়ে সৎমাকে আসল মা সাজিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ এনে গোপনে দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে লোকজন তাঁকে বিষয়টি জানায় এবং তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।
২০১৫ সালে আবদুল কাদিরের সঙ্গে শেফালী বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান জয়নাল আবেদীন (৮) ও ওয়াসকুরুনি (২)। বিচ্ছেদের এক সপ্তাহ পর আবদুল কাদির আকলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। আগের সংসারের দুই সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তিনি। শিশুটির বাবাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে।
"আমি সতিনের ছেলে হওয়ায় শিশুটিকে নিজের পথের কাঁটা মনে করতাম। নিজের ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করার জন্য আমি এ কাজ করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা, বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকলিমা আক্তার (সৎমা), আবদুল কাদির (বাবা), শেফালী বেগম (মা), ওয়াসকুরুনি ইসলাম (শিশু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ বছর (শিশুর বয়স), ৮ বছর (জয়নাল আবেদীন), ১৬৪ ধারা (ফৌজদারি কার্যবিধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!