📌 ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখায় টাকা লুটের চেষ্টায় গ্রেপ্তার কাওসার আহমেদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, তিনি ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুল ইসলামের সাথে মিলে লুটের পরিকল্পনা করতেন। কিন্তু হাত কেটে যাওয়ার কারণে পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজারে কৃষি ব্যাংকের শাখায় টাকা লুটের চেষ্টায় গ্রেপ্তার কাওসার আহমেদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, তিনি ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুল ইসলামের সাথে মিলে লুটের পরিকল্পনা করতেন। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় মাজহারুলের হাত কেটে যাওয়ার কারণে পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজার শাখায় টাকা লুটের চেষ্টায় গ্রেপ্তার কাওসার আহমেদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, তিনি ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুল ইসলামের সাথে মিলে লুটের পরিকল্পনা করতেন।
- 📌 পরিকল্পনা ছিল কাওসার ভল্টের টাকা লুট করবেন এবং মাজহারুলকে বেঁধে চুরির নাটক সাজানো হবে, যাতে কারও সন্দেহ না হয়।
- 📌 দড়ি বাঁধতে গিয়ে মাজহারুলের হাত কেটে যায়, যা পরিকল্পনা ভেঙে দেয়।
- 📌 মাজহারুল চিৎকার করে লোকজনকে জড়ো করে, যা ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
- 📌 ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক দাবি করেছেন, মাজহারুল ঘটনায় জড়িত নন।
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের শাখায় টাকা লুটের চেষ্টায় গ্রেপ্তার কাওসার আহমেদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, তিনি ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুল ইসলামের সাথে মিলে লুটের পরিকল্পনা করতেন। কাওসার জানিয়েছেন, ব্যাংকে ঋণ নিতে গিয়ে মাজহারুলের সাথে পরিচয় হয় এবং তারা বিভিন্ন সময় আড্ডা দিতে দিতে লুটের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা ছিল কাওসার ভল্টের টাকা লুট করবেন এবং মাজহারুলকে বেঁধে চুরির নাটক সাজানো হবে, যাতে কারও সন্দেহ না হয়।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছমা আক্তারের আদালতে কাওসার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আজ শনিবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজার এলাকা থেকে মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাজহারুল সোহাগী ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের প্রয়াত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি প্রায় তিন বছর ধরে অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে ব্যাংকে চাকরি করছিলেন।
কাওসার জানিয়েছেন, ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ব্যাংকে ঢুকে মাজহারুলকে বাঁধতে শুরু করেন। কিন্তু দড়ির বাঁধন অতিরিক্ত শক্ত হয়ে গেলে মাজহারুল কিছুটা ঢিল করে দিতে বলেন। তখন চাকু দিয়ে দড়ির গিঁট আলগা করতে গেলে দুর্ঘটনাবশত মাজহারুলের হাত সামান্য কেটে যায়। হঠাৎ রক্ত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মাজহারুল। তিনি ধারণা করেন, সুযোগ বুঝে কাওসার তাঁকে মেরে ফেলতে পারে। সেই সন্দেহ থেকে তিনি পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন এবং সবকিছু ভেস্তে দিয়ে বাইরে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।
"ব্যাংকে কোন দিক দিয়ে ঢুকতে হবে, তালা না কেটে শিকল কাটতে হবে, দরজার সিটকিনি হালকা লাগানো থাকবে—সবই নিরাপত্তাকর্মী ব্যবস্থা করে দেন কাওসারকে।"
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি কাওসার জানিয়েছেন, ব্যাংক লুটের চেষ্টার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো ছিল। ওসি আরও বলেন, কোনো ধস্তাধস্তি ছাড়া একজন ব্যক্তি একা কীভাবে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে ফেললেন—বিষয়টি শুরু থেকেই সন্দেহজনক ছিল। পরবর্তী সময়ে চাকুর সামান্য পোঁচ ও জবানবন্দি বিশ্লেষণ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
মামলার বাদী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক দাবি করেছেন, নিরাপত্তারক্ষী চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন এবং কাওসারকে ধরতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কাওসার জবানবন্দিতে তাঁর নাম বলে থাকতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা, সোহাগী বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাওসার আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম, মো. নাজমুল হক, মো. সাজ্জাদ রোমন, আছমা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (দুজন আসামি), ৩ (বছর ধরে মাজহারুলের চাকরি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!