📌 ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও শ্যালকের নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র জাপান কৃষি ভিসায় চাকরি প্রদানের ভ্রান্ত প্রলোভন দেখিয়ে ২০টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। প্রতারিতদের পাসপোর্টও আটকে রেখেছে চক্র, ফলে তারা আইনি পথে বিদেশ যেতে পারছে না
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় জাপান কৃষি ভিসায় চাকরি প্রদানের ভ্রান্ত প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্র ২০টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। প্রতারিতদের পাসপোর্টও আটকে রেখে তারা তাদেরকে নিঃস্ব ও দিশাহারা করে দিয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ধুরাইল কাউলারা মাঠে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ও তাঁর শ্যালক মিন্টুর নেতৃত্বে একটি চক্র জাপান কৃষি ভিসায় চাকরির ভ্রান্ত প্রলোভন দেখিয়ে ২০টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে।
- 📌 প্রতারিতদের মধ্যে রয়েছে হালুয়াঘাট ও পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার অন্তত ২০ জন, যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 প্রতারকরা ভুয়া ম্যানপাওয়ার ও বিএমইটির কাগজপত্রের কপি প্রদান করে তাদেরকে প্রতারণা করেছে।
- 📌 প্রতারিতদের পাসপোর্ট আটকে রেখে তারা তাদেরকে আইনি পথে বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছে।
- 📌 ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানা, রায়হান, আবু কালাম, নূর হোসেন, আল মামুন, রাহাতুর রহমান শামীম, জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম, সিজান মাহমুদ, কালাম, সামিউল, সাঈম, জাফির হোসেন, ইমরুল কায়েস, খোরশেদ, শাহিন, নাছিমুল, নাছিম সিদ্দিকী, মাফিজুল ইসলাম ও জোবায়ের হোসেনসহ অনেকে।
- 📌 প্রতারিতদের মধ্যে একজন তরুণ বায়িং হাউসের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন জাপান চাকরির আশায়।
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল, ধারা, কৈচাপুর এবং পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার অন্তত ২০ জনের কাছ থেকে প্রতারকরা প্রায় ৫ লাখ টাকা করে আত্মসাত করেছে। প্রতারিতদের মধ্যে একজন যুবক সোহেল রানা সুদে ঋণ নিয়ে ও জমি বন্ধক রেখে দালালের হাতে ৫ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। তিনি ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু দালালের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারেন, সবই ভুয়া ছিল।
চাদশ্রী গ্রামের রায়হান ঋণ করে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন প্রতারকদের হাতে। এখন তাঁর পাসপোর্টও আটকে রেখেছে প্রতারক চক্র। অন্যদিকে, আবু কালাম নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে চক্রের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন। প্রতারিত হয়ে তিনি তিন কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, প্রতারকরা তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে আইনি পথে বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছে। সুদ ও ঋণের চাপে অনেক পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর উপক্রম। তারা অবিলম্বে প্রতারকদের হাত থেকে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ও পাসপোর্ট উদ্ধার এবং এই চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
"আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে প্রতারকরা আমাদেরকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন আমরা কী করবো, জানিনা।" — মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী একজন ভুক্তভোগী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা (ধুরাইল, ধারা, কৈচাপুর, ফুলপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোলাম মোস্তফা সারোয়ার (আওয়ামী লীগ নেতা), মিন্টুর (শ্যালক), সোহেল রানা, রায়হান, আবু কালাম, নূর হোসেন, আল মামুন, রাহাতুর রহমান শামীম, রফিকুল ইসলাম, সিজান মাহমুদ, কালাম, সামিউল, সাঈম, জাফির হোসেন, ইমরুল কায়েস, খোরশেদ, শাহিন, নাছিমুল, নাছিম সিদ্দিকী, মাফিজুল ইসলাম, জোবায়ের হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি পরিবার, ১ কোটি টাকা, ৫ লাখ টাকা প্রতি ব্যক্তি, ২০ জন ব্যক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!