📌 মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার 'পান কবিরাজ' শাহজালালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, তিনি ধর্মীয় ভয়ভীতি ও জ্বিনের কাহিনি ব্যবহার করে টাকা চুরি করেছেন। ৯ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে একজন সাংবাদিক মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ‘পান কবিরাজ’ শাহজালালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, তিনি ধর্মীয় ভয়ভীতি ও জ্বিনের কাহিনি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চুরি করেছেন। অভিযোগকারীদের মতে, শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, বন্ধ্যাত্ব, অবাধ্য সন্তান নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের মানুষের কাছে আসার মতো সমস্যার সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ‘শাহজালাল পান কবিরাজ’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে; ভুক্তভোগীরা দাবি, তিনি জ্বিনের কাহিনি ও তাবিজের ভয় দেখিয়ে টাকা নিচ্ছেন
- 📌 অভিযোগ: শাহজালাল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মালামাল নিচ্ছিলেন; একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে মামলা প্রস্তুতি নিচ্ছেন
- 📌 ভুক্তভোগীরা দাবি, কোরআন অবমাননার অভিযোগে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীরা তার আস্তানা ভেঙে দিয়েছিল; পরে তিনি আবার কার্যক্রম শুরু করেন
- 📌 একজন নারী ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, পরে প্রতিবাদ করে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন; অন্য একজন নারী ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সমাধান পাননি
- 📌 স্থানীয়রা দাবি, শাহজালালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের প্রয়োজন; অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা
📰 বিস্তারিত
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামের ‘শাহজালাল পান কবিরাজ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ও মালামাল নিচ্ছিলেন। শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, বন্ধ্যাত্ব, অবাধ্য সন্তান নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের মানুষের কাছে আসার মতো সমস্যার সমাধানের কথা বলে আসছেন। রোগীদের তিনি বলতেন, তার কাছে থাকা ‘জ্বিন’ এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিদিন নিজ বাড়িতে আসন বসিয়ে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা লোকজনকে তিনি শত্রুতার কারণে তাদের বাড়িতে তাবিজ বা পুতুল পুঁতে রাখা হয়েছে বলে দিতেন। পরে কথিত জ্বিনের সাহায্যে সেসব তাবিজ বা পুতুল তুলে এনে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন। এ জন্য বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ও ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মালামাল নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া শাহজালালের বিরুদ্ধে ‘বাড়ি বন্ধ’ করার এবং জনপ্রতি ১২০ টাকা নজরানা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, জ্বিনের মাধ্যমে তাবিজ-কবজ বা পুঁতে রাখা পুতুল তুলে আনার বিষয়টি প্রতারণার একটি কৌশল। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কোরআন অবমাননার অভিযোগে এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুসল্লিরা শাহজালালের আস্তানা ভেঙে দেন এবং তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন। পরে তিনি আবারও সেখানে কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পরে কোনো সমাধান না পাওয়ায় অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রীনগর উপজেলার সিমপাড়া গ্রামের দুলাল বেপারীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের মাথায় সমস্যা ছিল। এ কারণে ওই কবিরাজের কাছে যাই। তিনি বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আমার কোনো কাজ হয়নি। পরে টাকা ফেরত বা বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমি শাহজালাল পান কবিরাজের বিচার চাই।’
টঙ্গীবাড়ী উপজেলার এক নারীর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ওই নারী পরে ক্ষুব্ধ হয়ে কবিরাজের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের সোহেল নামে এক সাংবাদিকের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
"আমার মেয়ের মাথায় সমস্যা ছিল। এ কারণে ওই কবিরাজের কাছে যাই। তিনি বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আমার কোনো কাজ হয়নি। পরে টাকা ফেরত বা বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমি শাহজালাল পান কবিরাজের বিচার চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা, রশুনিয়া ইউনিয়ন, রশুনিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহজালাল পান কবিরাজ, দুলাল বেপারীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম, সোহেল (সাংবাদিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮-১০ হাজার টাকা (মালামাল), ১২০ টাকা (নজরানা), ২৫ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকা, ৯ লাখ টাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!