📌 ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে শুরু করে ঢাকার আশুলিয়ায় ধর্ষণ ও হত্যার সিরিজে জড়িয়ে পড়েছেন মনিরুজ্জামান। ১২ বছর আগে স্ত্রী হত্যার পর একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়া এই ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তি সর্বশেষ অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন
ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে শুরু করে ঢাকার আশুলিয়ায় ধর্ষণ ও হত্যার সিরিজে জড়িয়ে পড়েছেন মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়। ১২ বছর আগে নিজের স্ত্রীকে হত্যার পর একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়া এই ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তি সর্বশেষ অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনিরুজ্জামান বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ বছর আগে স্ত্রী হত্যার পর একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়েন মনিরুজ্জামান (৪৪)।
- 📌 আশুলিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম (৩৯) ও তার স্বামী আলমগীর কবির (৪৫)কে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি।
- 📌 পুলিশের তথ্য: ২০১৪ সালে স্ত্রী হত্যার মামলায় চার বছর কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান মনিরুজ্জামান।
- 📌 ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানার কর্মকর্তারা মনিরুজ্জামানকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হত্যার স্বীকারোক্তি দেন।
- 📌 নাজমা বেগমের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে ছিল, আর স্বামী আলমগীরের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দামদরদি গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান ওরফে মনির হোসেন ওরফে হৃদয়। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছোটবেলা থেকেই উগ্র ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির ছিলেন। বিয়ে করার পরও তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর ওপর নাখোশ ছিলেন।
২০১৪ সালে নগরকান্দা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রী রাহেলা বেগমকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। তিনি পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, মনির বখাটে প্রকৃতির ছিলেন। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে গা ঢাকা দেন। পুলিশ ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। স্ত্রী হত্যা মামলায় চার বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর আবার পালিয়ে যান।
আশুলিয়ায় গা ঢাকা স্ত্রী হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মনিরুজ্জামান ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় গা ঢাকা দেন। সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। পিবিআইয়ের তদন্তে সম্প্রতি আশুলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় তাঁর নাম বেরিয়ে আসে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মধ্য আশুলিয়ার জামগড়ার আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয় অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম (৩৯) ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবিরের (৪৫) মরদেহ। খাটের ওপর পড়ে ছিল নাজমা বেগমের মরদেহ। আঘাতের ফলে ভূমিষ্ঠ নবজাতকের মরদেহও সেখানে পড়ে ছিল। আর আলমগীর কবিরের মরদেহ ছিল একই কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায়।
"তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, স্ত্রী হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মনিরুজ্জামান আশুলিয়ায় এলাকায় গা ঢাকা দেন। সেখানে আলমগীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। খুন হওয়ার আগে আলমগীর বেকার ছিলেন। আর মনিরুজ্জামান সবজির ব্যবসা করতেন। তাঁদের উভয়ের বাসা ছিল কাছাকাছি। নাজমাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক আগে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন মনিরুজ্জামান। বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীরের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের বিরোধ দেখা দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা (দামদরদি গ্রাম), ঢাকার আশুলিয়া (জামগড়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪), নাজমা বেগম (৩৯), আলমগীর কবির (৪৫), এসআই আবদুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর (অপরাধের সময়কাল), ৪৪ বছর (মনিরুজ্জামানের বয়স), ৩৯ বছর (নাজমা বেগমের বয়স), ৪৫ বছর (আলমগীর কবিরের বয়স), ৫ সেপ্টেম্বর (হত্যার তারিখ), ৮ সেপ্টেম্বর (আটকের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!