📌 মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার দাবি করেছেন, ছোট ভাই আলমগীর শিকদারই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানদাতা। তিনি পলাতকতার অভিযোগও করেছেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন
মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ছোট ভাই আলমগীর শিকদারই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানদাতা। তিনি দাবি করেছেন, আলমগীরের হাতেই স্বামীর মৃত্যু ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিহত জাহাঙ্গীরের বাসভবনে, যেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন এবং পুলিশের তদন্তে অসন্তুষ্টতা প্রকাশ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিঠামইন বিএনপি সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার দাবি করেছেন, ছোট ভাই আলমগীর শিকদার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানদাতা ছিলেন।
- 📌 তাসলিমা আক্তার জানান, আসামি হেলাল কারাগার থেকে ফোন করে তাঁকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানিয়েছেন এবং মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ারের ষড়যন্ত্রে তাঁকে ১৬৪ ধারায় আলমগীরের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছিল।
- 📌 নিহত জাহাঙ্গীরের বড় বোন নাদিরা পারভীন অভিযোগ করেছেন, আলমগীর তাদের ভাইবোনকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন।
- 📌 তাসলিমা আক্তার দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডের মামলাটি পুলিশের বাইরে পিবিআইয়ে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেছেন।
- 📌 মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, আসামি হেলাল ও তাসলিমার ফোনালাপ আসলে কৃত্রিমভাবে তৈরি হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
মিঠামইন উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানদাতা ছিলেন তার ছোট ভাই আলমগীর শিকদার। এই অভিযোগ তাসলিমা আক্তার আজ সংবাদ সম্মেলনে করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অর্থের ব্যবস্থা আলমগীর করছিলেন। তাসলিমা আক্তার আরও জানান, আসামি হেলাল কারাগার থেকে ফোন করে তাঁকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হেলালকে রিমান্ডে নেওয়ার পর আলমগীরের নাম বলায় তাঁকে মারধর ও শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল।
তাসলিমা আক্তার অভিযোগ করেছেন, মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাব্বিরকে তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন, সাব্বিরকে কেন তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হয়েছিল?
তাসলিমা আক্তার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের মামলাটি মিঠামইন থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করার পর থেকেই আলমগীর শিকদার পলাতক হয়ে পড়েছেন। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছিলেন, যেখানে তিনি আলমগীরের বিরুদ্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
নিহত জাহাঙ্গীরের বড় বোন নাদিরা পারভীন অভিযোগ করেছেন, আলমগীর তাদের ভাইবোনকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তারা যেন এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে, সে জন্য আলমগীর তাদের ভাইবোনকে হুমকি দিচ্ছেন।
মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, আসামি হেলাল ও বাদী তাসলিমার ফোনালাপ প্রকৃতপক্ষে আসলে কৃত্রিমভাবে তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ফোনালাপের বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহের বিষয়। জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ফোনালাপের বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহ হচ্ছে। তবে বাদীপক্ষের উচিত ছিল না এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা। তিনি বলেন, তারা এ বিষয়ে তদন্ত করবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাবেন।
"মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমার স্বামী জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে আলমগীর শিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আলমগীর তাঁকে খুন করতে পারেন এবং সে আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। ওই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই সাব্বির। হত্যাকাণ্ডের পরদিন সাব্বিরকে কেন তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হয়, সে জবাব চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিঠামইন উপজেলা, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসলিমা আক্তার (জাহাঙ্গীরের স্ত্রী), আলমগীর শিকদার, নাদিরা পারভীন (জাহাঙ্গীরের বড় বোন), ওসি মনোয়ার হোসেন, এসআই সাব্বির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!