📌 মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে। ঘটনায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে এবং স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যরাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢুকে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়।
- 📌 ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার।
- 📌 প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, জায়গাটি দখলের অভিযোগে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’।
- 📌 পুলিশ তদন্ত চালিয়ে ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
- 📌 ভাঙচুরের পরও টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে এবং সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করছে।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করা হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গতকাল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন। তবে রাতে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, জায়গাটি নিয়ে কোনো সমিতি ও এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মধ্যে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে’। ভাঙচুরের পর টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা যাবে কি না, জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, সেখানে ইতিমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে।
প্রশাসককে প্রশ্ন করা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্থাপনা ভাঙার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কেন তা ঠেকাতে পারেনি। জবাবে তিনি বলেন, সেখানে পুরোপুরি কোনো ভবন ছিল না। টিনশেডের মতো স্থাপনা ছিল। তাঁর জানামতে, জায়গাটি কাঁচাবাজার ও সেমিপাকা ধরনের ছিল। সেখানে কোনো ভবন বা স্থাপনা ছিল না। তবে যে-ই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাঁদের সমর্থন নেই। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"এ ধরনের ঘটনা সরকার চায় না। তাঁরাও চান না। ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: এক কোটি টাকা (ক্ষয়ক্ষতি), দুই শতাধিক (লুটপাটকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!