📌 মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলি করে শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট করার মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হামিদুল আলমকে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করলে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে
মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট করার মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. হামিদুল আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো আদালত মঞ্জুর করেছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আজ সোমবার এই নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশিকুজ্জামান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানির পর আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করে। ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মিরপুর হত্যাচেষ্টা মামলায়** সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হামিদুল আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো আদালত মঞ্জুর করেছে।
- 📌 **২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায়** বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলি করে শিক্ষার্থী সিয়াম ব্যাপারীর ডান চোখ নষ্ট হয়।
- 📌 **আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায়** তৎকালীন সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন হামিদুল আলম।
- 📌 **২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি** মামলা দায়ের করা হয়।
- 📌 **হামিদুল আলমের বাবা এস এম ইবনে আজিজ** বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার তাজুরেপাড়ায় বাস করেন।
- 📌 **২০২৫ সালের ৬ মে** বগুড়ায় দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় হামিদুল আলম কারাগারে রয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় শাহ আলী প্লাজার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। বেলা ২টার দিকে সেখানে ১৪ দলীয় জোটের একটি সমাবেশ হয়। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বিপথগামী পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং সরাসরি গুলি ছোড়া হয়। এতে সিয়াম ব্যাপারী নামের এক শিক্ষার্থীর ডান চোখে গুলি লাগে এবং তার চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা শেষে সিয়াম কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্যান্য আসামির পাশাপাশি তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি, নির্দেশ ও অর্থ জোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর এই নিষ্ঠুর দমনপীড়ন চালানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশিকুজ্জামান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করে। ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামিদুল আলমের বাবা এস এম ইবনে আজিজ বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার তাজুরেপাড়ায় বাস করেন। গত ৬ মে বগুড়ায় দায়ের করা একটি দুর্নীতির মামলায় হামিদুল আলম কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
"আন্দোলনকারীদের ওপর এই নিষ্ঠুর দমনপীড়ন চালানোর জন্য মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১০ গোলচত্বর, ঢাকা; বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হামিদুল আলম, মো. আশিকুজ্জামান (এসআই), সিয়াম ব্যাপারী, এস এম ইবনে আজিজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ জুলাই ২০২৪, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬ মে ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!