📌 গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কি পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন? আইন ও নীতিমালা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তাদের কোনো স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা নেই
গত রোববার ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলে তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কাউকে ধরতে এগিয়ে যাওয়ার সময় একজন তরুণকে লাথি মারার চিত্র ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কি আইনগতভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান চালাতে পারেন? আইন ও নীতিমালা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাদের কোনো স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত রোববার ঢাকার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর এলাকায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কাউকে ধরতে বলেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কাউকে ধরতে এগিয়ে যান এবং একজন তরুণকে লাথি মারার চিত্র ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে।
- 📌 প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। তবে তিনি অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরও পুলিশ মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
- 📌 ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- 📌 বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ। তবে তাদের কোনো স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা নেই পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা বা কাউকে আটক করার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ২১ ও ২৩ ধারা অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের।
- 📌 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র থাকলেও অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করতে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও পুলিশি অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা তৈরি হয় না।
📰 বিস্তারিত
গত রোববার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ঘটনা ঘটে। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কাউকে ধরতে বলছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কাউকে ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় একজন তরুণকে লাথি মারার চিত্রও দেখা যায়। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্র বৈধ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরও পুলিশ মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তিনি অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতা কতটুকু? বৈধ অস্ত্র থাকলেই কি সেটি উঁচিয়ে অভিযান চালানো যায়?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ। তবে তাদের কোনো স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা নেই পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা বা কাউকে আটক করার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, প্রকাশ্য স্থান বা চলাচলকারী যানবাহনে মাদকদ্রব্য জব্দ এবং নির্দিষ্ট শর্তে কাউকে আটক ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এই আইনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে আলাদা কোনো অভিযান পরিচালনার ক্ষমতার উল্লেখ নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র থাকলেও অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করতে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। নীতিমালার ২৫(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন/ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি/বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।’
"আমার হাতে থাকা অস্ত্র বৈধ। তবে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরও পুলিশ মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি সেখানে গিয়েছিলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গেন্ডারিয়া, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম, দেহরক্ষীরা, স্থানীয় তরুণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ (সংবিধান অনুচ্ছেদ), ২১ ও ২৩ (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ধারা), ১৩ জুলাই ২০২৫ (নীতিমালা প্রকাশের তারিখ), ২৫(ক) ও ২৫(খ) (অগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা অনুচ্ছেদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!