📌 মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগের নেতা মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেলের জামিনের জন্য বিএনপি ও তাঁতী দলের স্থানীয় নেতারা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। কিন্তু রুহুল আমিনের নাম আওয়ামী লীগের কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে। প্রত্যয়নপত্রে তাঁকে বিএনপির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগের নেতা মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেলের জামিনের জন্য বিএনপি ও তাঁতী দলের স্থানীয় নেতারা দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে প্রশ্ন উঠেছে। রুহুল আমিনের নাম ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবরের আওয়ামী লীগের কমিটিতে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে। তবে প্রত্যয়নপত্রে তাঁকে বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকার দাবি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেল (৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাভার গ্রামের বাসিন্দা) কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা, যিনি বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে পদে রয়েছেন।
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাঁকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে, পরদিন কারাগারে পাঠানো হয়।
- 📌 ২৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্থানীয় নেতারা এবং ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁতী দলের নেতা মো. বাবুল হোসেন প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন, যেখানে রুহুল আমিনকে বিএনপির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 বাবুল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে তাঁর নাম সংগঠনের প্যাডে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
- 📌 বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ভুল ছিল এবং তা তুলে নেওয়া হবে।
- 📌 সুশাসনের জন্য নাগরিকের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও বিচার পাওয়ার অধিকার নষ্ট হওয়া উচিত নয়।
- 📌 জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নূরতাজ আলম বাহার বলেছেন, প্রত্যয়নপত্র আদালতের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগের নেতা মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেলের জামিনের জন্য বিএনপি ও তাঁতী দলের নেতারা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। তবে রুহুল আমিনের নাম আওয়ামী লীগের কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে। সাটুরিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনকে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৪ সেপ্টেম্বর বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নানের স্বাক্ষরে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। প্রত্যয়নপত্রে রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবারকে বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির সব কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রত্যয়নপত্রে আরও দাবি করা হয়, রুহুল আমিন কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এই প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ রুহুল আমিনের নাম আওয়ামী লীগের কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মো. ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবরের কমিটিতে রুহুল আমিনকে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাবুল হোসেনের স্বাক্ষরে আরেকটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। এতে রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবারকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ৫ আগস্টের আগের সরকারের উৎখাতের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুল হোসেন সংগঠনের প্যাডে নিজেকে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন।
বাবুল হোসেন প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রত্যয়ন দিয়েছি, এটা ঠিক। তবে এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত আছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে কথা বলব।’ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, অন্য নেতাদের স্বাক্ষর দেখে তিনি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কারও কথা হয়নি।
বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘প্রত্যয়নপত্র দেওয়াটা ভুল হয়েছে। রুহুল আমিনের আওয়ামী লীগে পদ-পদবি আছে, তা জানা ছিল না। প্রত্যয়নপত্র তুলে নেওয়া হবে।’ সুশাসনের জন্য নাগরিকের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও বিচার পাওয়ার অধিকার নষ্ট হওয়া উচিত নয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তাঁর পক্ষে প্রত্যয়ন দেওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
"কোনো আসামির পক্ষে প্রত্যয়ন বা সুপারিশ দেওয়া এবং আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়া বা খালাস পাওয়া এক বিষয় নয়। মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। প্রত্যয়নপত্র আদালতের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।"
জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নূরতাজ আলম বাহার বলেছেন, প্রত্যয়নপত্র আদালতের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। রুহুল আমিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাটুরিয়া উপজেলা, মানিকগঞ্জ; বরাইদ ইউনিয়ন, সাভার গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেল, মো. বাবুল হোসেন, আবদুল হামিদ, আফাজ উদ্দিন, আবদুল মান্নান, মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন, ইকবাল হোসেন, নূরতাজ আলম বাহার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ১০ অক্টোবর ২০২৩, ২২ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ৫ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!