📌 গাজীপুর টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করা হয়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় মামলা দায়ের ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ৭ বছর বয়সী ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করা হয়।
- 📌 অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) ভিডিওতে বলেছেন, ‘আমার স্টুডেন্টদের সঙ্গে অন্য রকম সম্পর্ক ছিল’।
- 📌 শিশুটির বাবা নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করে, অন্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও আঘাত পড়েছে।
- 📌 মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিত ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল লুট হয়েছে।
- 📌 অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু শিশুটির বাবা বলেছেন, মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণের জন্য মামলা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
গাজীপুর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় গত সোমবার প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করা হয়। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। শিশুটি ঘটনাটি বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কাছে প্রকাশ করে। এরপর শিশুটির স্বজনরা বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...’ এরপর শিশুটির স্বজনরা তাকে ‘কিসের চুমু রে’ বলে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে এই ঘটনার অংশ দেখা যায়। আরেকটি ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষককে মারধর করছেন কয়েকজন। মাদ্রাসায় থাকা লোকজন তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করেন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীকেও মারধর করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর হয় এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল লুটের অভিযোগ করা হয়। তবে শিশুটির বাবা লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার মেয়ে ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। গত সোমবার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন দাবি করেছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
"আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু..."
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর টঙ্গী, আউচপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০), শিশুটির বাবা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর বয়সী ছাত্রী, ৩০ বছর বয়সী শিক্ষক, ২৪ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিও, ১৫-১৬ জনের দল, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল লুটের অভিযোগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!