📌 লালমনিরহাটে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জেলা আদালত। মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে
লালমনিরহাটের একটি নৃশংস হত্যা মামলায় স্বামী আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত আসামি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মৃত্যুদণ্ড**: লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারের হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে
- 📌 **জরিমানা ও অতিরিক্ত দণ্ড**: ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান
- 📌 **ঘটনার বিবরণ**: ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে স্ত্রীকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়
- 📌 **সাক্ষ্য ও বিচার**: মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর রায় ঘোষণা করা হয়েছে
- 📌 **আদালতের রায়**: বিচারক মো. হায়দার আলী মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত দণ্ড প্রদান করেছেন
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে লালমনিরহাটের একটি পরিবারে নৃশংস হত্যা ঘটে। আসামি আতিকুল ইসলাম (৩০) তার স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাক্রমে, আতিকুল কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে স্ত্রী মিতু বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রথমে মিতুকে কিল-ঘুষি মারেন এবং পরে ঘরের উঠানে থাকা প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে মিতুর পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে আতিকা আক্তারের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলায় নিহত মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, ‘আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে যে, নারী নির্যাতন ও নৃশংসতার কোনো ছাড় নেই।’ তিনি জানান, আইন অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনগত সুযোগ রয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত মিতুর পরিবার।
"আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে যে, নারী নির্যাতন ও নৃশংসতার কোনো ছাড় নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমনিরহাট জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আতিকুল ইসলাম (৩০), মিতু আক্তার, মো. হায়দার আলী, অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১৭ জন সাক্ষী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!