📌 কুষ্টিয়ার কুমারখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি জমিসংক্রান্ত কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে এক সপ্তাহ আগে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে
কুষ্টিয়ার কুমারখালী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর এটি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি নজরে আসার পর রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে তাকে চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রেজাউল ইসলামর ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি জমিসংক্রান্ত কাজের বিনিময়ে ১০০ টাকা নেওয়ার কথা বলেছেন।
- 📌 ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘নোটিশ জারি করতে ৪০+৪০ টাকা, আবার ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা — মোট ১২০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু আপনি ১০০ টাকা দিয়েছেন’।
- 📌 ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেজাউল ইসলাম জমি নামজারি, খাজনা পরিশোধ বা নোটিশ জারির মতো সাধারণ কাজেও অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখতেন।
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক ব্যক্তি ১০০ টাকা দিলে রেজাউল ইসলামের সঙ্গে তর্ক হয়, যা ভিডিওর মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছিল।
- 📌 কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আগেই রেজাউল ইসলামকে চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে বদলি করা হয়েছিল।
- 📌 কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেছেন, ‘ভিডিওটি নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’।
📰 বিস্তারিত
কুমারখালী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রেজাউল ইসলাম জমিসংক্রান্ত কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘একটা নোটিশ জারি করতে ৪০+৪০ টাকা, আবার ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা — মোট ১২০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু আপনি ১০০ টাকা দিয়েছেন’। ভিডিওতে একজন ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের কি এই টাকা দেওয়ার নিয়ম নাকি?’ রেজাউল ইসলাম জবাব দেন, ‘ওইটা এসিল্যান্ডে গিয়ে বলেন গাড়ি ভাড়া চাই’।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেজাউল ইসলাম জমিসংক্রান্ত নামজারি, জমিভাগ, খাজনা পরিশোধ বা নোটিশ জারির মতো সাধারণ কাজেও অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখতেন এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি করতেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক ব্যক্তি দাবিকৃত টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা দিলে রেজাউল ইসলামের সঙ্গে তর্ক হয়। ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই রেজাউল ইসলামকে চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। শাস্তি হিসেবে স্যারেরা বদলি করেছেন। আমি আর এমন করব না’।
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আপনাদের মতো আজকেই আমাদের নজরে এসেছে ভিডিওটি। নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীর বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁকে ওই অফিস থেকে এক সপ্তাহ আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে’।
"একটা নোটিশ জারি করতে ৪০+৪০, আশি টাকা, আবার এখন গদ লিখে ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা। ১২০ টাকা তো খরচই হয়। আর আপনি দিয়ে যাচ্ছেন ১০০ টাকা, আবার আজেবাজে কথা বলছেন—যে এইটা বাবদে আপনারা খরচ পান। কিডা আমাদের খরচ দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া কুমারখালী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়, চাপড়া ইউনিয়ন, চাঁদপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজাউল ইসলাম (অফিস সহকারী), নাভিদ সারওয়ার (সহকারী কমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ টাকা (ঘুষ), ৪০+৪০ টাকা (নোটিশ জারি), ১২০ টাকা (মোট খরচ), ১৪ সেপ্টেম্বর (ঘটনা), ৩৬ বছর (মো. রবিন হোসেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!