📌 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে ২০২৫ সালে মাদকবিরোধী অভিযানে আটককৃত সাত কিশোরের মধ্যে একজনকে গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। এখন ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিমের হত্যার সঙ্গে এই অভিযানের কি সম্পর্ক আছে, তা নিয়ে মায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিশোধের ভয়ে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে ২০২৫ সালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান ও ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ‘অপ্রতিম’-এর হত্যার মধ্যে কি সংযোগ রয়েছে, তা নিয়ে মায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযানকে প্রতিশোধের জের হিসেবে দেখিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনো কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে সাত কিশোর আটক হন, তাদের মধ্যে একজন তুহিন নামের গ্যাং সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে
- 📌 ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়া অপ্রতিমের মরদেহ ১৯ সেপ্টেম্বর সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাদকবিরোধী অভিযান ও অপ্রতিমের হত্যার মধ্যে প্রতিশোধের সম্ভাবনা দেখিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন
- 📌 শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলেছেন: হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও নিরাপত্তা ইউনিট গঠন
- 📌 পুলিশ জানিয়েছে, এখনো অভিযান ও হত্যার মধ্যে কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বরে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে গাঁজাসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে দুজন তুহিন নামের এক কিশোরের গ্যাং সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। আটককৃত সাত কিশোরের বয়স সবাই ১৮ বছরের কম ছিল। তাদেরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জব্দকৃত গাঁজা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযান ছিল প্রক্টরিয়াল টিমের নিয়মিত অভিযানের অংশ।
অপ্রতিমের হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার (শীলা) বলেছেন, “২০২৫ সালে ড. নাহিদা বেগম মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতে অপ্রতিম হত্যা করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের প্রয়োজন।” তিনি ড. নাহিদা বেগমের দাবি উল্লেখ করে বলেন, “পুলিশ তদন্ত করে দেখতে হবে, এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে অপ্রতিমের হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না। বিশেষ করে, আগের কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে অপ্রতিমের বাসা থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর মৌনমিছিল করে চার দফা দাবি তুলেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে: হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, পুলিশ সুপার ও সদর দক্ষিণ থানার কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং নিরাপত্তা ইউনিট গঠন।
"২০২৫ সালে ড. নাহিদা বেগম মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতে অপ্রতিম হত্যা করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল, সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়, বিজয়পুর ইউনিয়ন, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. নাহিদা বেগম, ইশায়াত শাহরিয়ার (অপ্রতিম), ড. কামরুন নাহার (শীলা), তুহিন, শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বছর (অপ্রতিমের বয়স), ৬ ফেব্রুয়ারি (মাদকবিরোধী অভিযানের তারিখ), ১৮ সেপ্টেম্বর (অপ্রতিম নিখোঁজ), ২০২৫ (অভিযানের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!