📌 কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামে ১৯ বছর বয়সী তুহিনকে হত্যাকাণ্ডে মূলহোতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনের বাড়ি থেকে আইফোন উদ্ধার এবং স্থানীয়দের বিবরণ থেকে ঘটনার সাথে তার জড়িতপনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামে ১৯ বছর বয়সী তুহিনকে হত্যাকাণ্ডে মূলহোতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তরুণকে স্থানীয় লোকজনের কাছে ‘উচ্ছৃঙ্খল’ হিসেবে পরিচিত ছিল। গত শনিবার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া তিনজনের মধ্যে তুহিন একজন। বাকি দুজন ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী। এছাড়া তুহিনের ঘনিষ্ঠ মো. সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯ বছর বয়সী তুহিন**কে অপ্রতিম হত্যার মূলহোতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- 📌 **হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া তিনজনের মধ্যে** তুহিন একজন। বাকি দুজন ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী।
- 📌 **তুহিনের বাড়ি থেকে আইফোন উদ্ধার** করা হয়। তার মা শিরিনা আক্তার বলেন, “আমার ছেলে অপরাধী হয়, তাহলে আমিও তার বিচার চাই।”
- 📌 **১৫ বছর বয়সী কিশোর**কে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার সন্দেহে পুলিশের নজর। তার বাবা অটোরিকশাচালক।
- 📌 **সানন্দা গ্রামের বাসিন্দারা** বলছেন, তুহিনের বেপরোয়া চলাফেরা ও দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
সানন্দা গ্রামের মৈশান বাড়ির নুরে আলমের চার ছেলের মধ্যে তুহিন সবার বড়। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার আগ থেকেই তার চলাফেরা নিয়ে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনা ছিল। বাবা মুরগির খামারের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তুহিনের বাবা তাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিলে তার বেপরোয়া চলাফেরা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, তিনি জোরে জোরে হোন্ডা চালাতেন এবং রাতবিরাতে বাইরে থাকতেন।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। তার মায়ের দেখানো জায়গা থেকে তুহিনের খাটের তোশকের নিচে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। শিরিনা আক্তার বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় তুহিন একটি ব্যাগে করে ফোনটি এনে ছোট ভাইকে লুকিয়ে রাখতে বলেছিল। পরে ফোনটি তার বিছানার তোশকের নিচে রাখা হয়। আমি বুঝি, আমার ছেলে এই ঘটনায় জড়িত। আইনে যদি তিনি অপরাধী হয়, তাহলে আমিও তার বিচার চাই।”
হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। তার বাবা অটোরিকশাচালক। এই কিশোরের বাড়ি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকায়। তিনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ২ সেপ্টেম্বর তার বাবা তাকে ফিরোজ শাহরিয়ারের কাছে নিয়ে যান। ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোন যন্ত্রাংশ সরবরাহের প্রতিষ্ঠান ‘ইয়েসটেক’-এ মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করে সে। অপ্রতিমকে চিনত তার বাবার দোকানে চাকরি নেওয়া এই কিশোর।
"বুঝার বাকি নাই এই ঘটনার লগে আমার পোলা জড়িত"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সানন্দা গ্রাম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা, বিজয়পুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯), ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী কিশোর, নাহিদা বেগমের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ বছর (তুহিন), ১৫ ও ১৬ বছর (দুজন কিশোর), ১৪ হাজার টাকা (মাসিক বেতন), ২৪ নম্বর ওয়ার্ড (সালমানপুর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!