📌 কুমিল্লায় একটি স্কুলছাত্রীকে অটোরিকশায় ধর্ষণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি
কুমিল্লায় একটি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অটোরিকশায় ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সুমন শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান। শনিবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায়** সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়
- 📌 **চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার** করা হয়, তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়
- 📌 **মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান সুমন**, পরে বাখরাবাদ এলাকা থেকে ফোন উদ্ধার করা হয়
- 📌 **৭ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে** কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নামেন শিক্ষার্থী, পরে তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়ে না
- 📌 **মরদেহ উদ্ধার** হয় লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের ফসলি জমিতে, ঘটনার ৩ দিন পর
📰 বিস্তারিত
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ৩০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায় ওঠেন শিক্ষার্থী। তাকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক সুমন অন্য স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধানখেতে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান সুমন।
পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন। অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে গাড়িটির মালিক হিসেবে লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। পরে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেখানো মতে নগরের উপকণ্ঠের বাখরাবাদ এলাকা থেকে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে তার চলাচল সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা গেছে। আশপাশের ক্যামেরায় তার মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। পরে তিনি সড়কের দিকে চলে গেলে আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়ে না।
"মরদেহ উদ্ধারের পর শিক্ষার্থীর বাবা জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায়। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা (পদুয়ার বাজার, রেসকোর্স, লালমাই উপজেলা, বাখরাবাদ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী (সপ্তম শ্রেণি), অটোরিকশাচালক সুমন, আবুল হাসেম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ টাকা (ভাড়া), ১০ টা (ঘন্টা), ৪ অক্টোবর, ৫ অক্টোবর, ৭ অক্টোবর, ১২ টা (টার), ১০ টা (টার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!