📌 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। চার্জশিট জমা না দিলে পরিবার আশঙ্কায়। চার আসামির মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, কিন্তু পুলিশ চার্জশিট দিতে দেরি করছে
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম শাহরিয়ারের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। এক মাস পরও চার্জশিট জমা না দিলে পরিবার আশঙ্কায়। পুলিশের দাবি, তথ্য যাচাই শেষে শিগগির চার্জশিট দেওয়া হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়, কিন্তু বিচার শুরু হয়নি
- 📌 চার আসামির মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, কিন্তু চার্জশিট জমা হয়নি
- 📌 ১৬ ও ১৫ বছর বয়সী দুজন অপরাধী অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন
- 📌 হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল মায়ের আইফোন নেওয়া — জবানবন্দিতে উঠে এসেছে
- 📌 পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ফোন নেওয়ার সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম শাহরিয়ারের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোটবাড়ি গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়েছিলেন অপ্রতিম। পরদিন তার লাশ উদ্ধার করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে। ওই রাতেই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার পুলিশের কাছে হত্যা মামলা করেন।
মামলায় চার আসামির মধ্যে তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন ১৬ ও ১৫ বছর বয়সী অপরাধী। ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে জবানবন্দি দেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ১৫ বছর বয়সী তার বন্ধু। তবে অপর আসামি সিয়াম (১৮) স্বীকারোক্তি দেননি।
জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ঘটনার আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তুহিন ও সিয়ামের দেখা হয়। সেখানে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়া এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে টিকটকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার দিন বেলা ২টার পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের দেখা হয়। পরে সে তার ১৫ বছর বয়সী বন্ধুকে নিয়ে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।
জবানবন্দির বর্ণনা অনুযায়ী, আইফোন নেওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অপ্রতিমকে মারধর করা হয়। ফোনটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দুই কিশোরকে ভাগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মোবাইল ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।
"অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হয়েছে। আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এরপরও চার্জশিট দিতে দেরি হচ্ছে কেন, তা বুঝতে পারছি না। পুলিশ তখন এক মাসের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার কথা বলেছিল। আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ করব, দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হোক।"
— কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার, অপ্রতিমের বাবা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘অপ্রতিম হত্যা মামলাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মামলার তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আমরা কাজ করছি, শিগগির চার্জশিট দেব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা, কোটবাড়ি গন্ধমতী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার, ড. নাহিদা বেগম, রাজিব আহমেদ, সাইফুল ইসলাম তুহিন, মো. আনিসুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০ সেপ্টেম্বর, ১৬৪ ধারা, ১৯ বছর, ১৬ বছর, ১৫ বছর, ২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!