📌 কুমিল্লায় যুবদল কর্মী আবু কাউছারের হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম জনতার হাতে ধরা পড়েন। রক্তমাখা জামা পরিহিত অবস্থায় তাকে মারধর করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে ভিডিওতে মারধরের দৃশ্য ধরা পড়ে
কুমিল্লায় যুবদল কর্মী আবু কাউছারের হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম জনতার হাতে ধরা পড়ার পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে রক্তমাখা জামা পরিহিত অবস্থায় তাকে শনাক্ত করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে পুলিশের হস্তান্তর করেন। ঘটনাস্থলে ভিডিওতে মারধরের দৃশ্য ধরা পড়ে, যেখানে লোকজন তাকে লাঠি ও কিলঘুষি মারছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তৌহিদুল ইসলাম কুমিল্লায় আবু কাউছারের হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জনতার হাতে ধরা পড়েন। তার গায়ে রক্তমাখা জামা ছিল।
- 📌 নুরপুর এলাকায় ঘটনাস্থলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে, পরে পুলিশ হেফাজতে নেন।
- 📌 মো. সোহাগ হোসেন প্রথমে তাকে শনাক্ত করেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন। ঘটনাস্থলে ভিডিওতে মারধরের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে।
- 📌 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত চলছে।
- 📌 জমি বিরোধের জেরে ঘটনায় আবু কাউছারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন।
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ঘটনার পর আত্মগোপনে ছিলেন প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল। গতকাল রাত একটার দিকে নুরপুর এলাকা থেকে তাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদস্যরা উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন তাকে লাঠি ও কিলঘুষি মারছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের হস্তান্তর করা হয়।
মহানগর যুবদলের সদস্য ও নুরপুরের বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন জানান, তিনি প্রথমে তৌহিদুলকে শনাক্ত করেন। রাত ১২টার দিকে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। নুরপুর পূর্বপাড়া কাজী বাড়ির সামনে তৌহিদুল একটি অটোরিকশা থেকে নামেন। সোহাগ বলেন, ‘তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন ডেন্টিস্ট বেলালের বাসা কোন দিকে। ফেসবুকে ঘটনার ছবি দেখেছিলাম। তার জামায় রক্তের দাগ ছিল। আমি তাকে খুনি বলে চিহ্নিত করি এবং পুলিশকে ফোন দিই। তিনি খঞ্জর বের করে আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। আমি ইট ছুড়ি দিলে লোকজন তাকে ধরে ফেলে।’
সোহাগ আরও বলেন, ‘তৌহিদুল ছাদে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। লোকজন তাকে ধরে নিয়ে পুলিশের হস্তান্তর করেন। ঘটনাস্থলে ভিডিওতে মারধরের দৃশ্য ধরা পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছাদের নিচে লোকজন তাকে ঘিরে রেখেছে। অন্য একটি ভিডিওতে তিনি মেঝেতে বসে রক্ত ঝরছিলেন।’
"রাত ১২টার দিকে আমি বাসায় ফিরছিলাম। নুরপুর পূর্বপাড়া কাজী বাড়ির সামনে ওই ব্যক্তি একটি অটোরিকশা থেকে নামেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ডেন্টিস্ট বেলালের বাসা কোন দিকে। ফেসবুকে ঘটনার ছবি দেখেছিলাম। সেই জামাটাই তাঁর গায়ে ছিল, জামায় রক্তের দাগ তখনো লেগে ছিল। আমি মোবাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে বললাম, আপনি তো খুনি।"
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে জমি বিরোধের জেরে ঘটনা ঘটে। আবু কাউছার নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনায় অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন। কাউছারের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, তাঁর বন্ধু শামীম হোসেন নদীর পাড়ে একটি জমি কিনেছিলেন। সেই জমির দখল নিয়ে শামীমের সঙ্গে তৌহিদুল ও তাঁর লোকজনের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে মীমাংসার কথা বলে তৌহিদুল ফোন করে কাউছারকে ডেকে নেন। কাউছার, শামীমসহ কয়েকজন অটোরিকশায় সেখানে গেলে তাঁদের ওপর হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তৌহিদুল ও তাঁর ভাই তানজিলসহ কয়েকজন হামলা চালান। কাউছারের ঘাড়সহ শরীরের নানা স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, নুরপুর এলাকা, নগরের নুরপুর, পূর্বপাড়া কাজী বাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তৌহিদুল ইসলাম, আবু কাউছার, মো. সোহাগ হোসেন, তৌহিদুল আনোয়ার (ওসি), মাসুম (অটোরিকশাচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: রাত ১২টা, রাত একটা, রাত তিনটা, ১২ (টার), ৪ (নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!