📌 কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফকির লালনের তিরোধান দিবস অনুষ্ঠানে আখড়াবাড়িতে রেখে যাওয়া টাইম বোমা নিষ্ক্রিয় করার ঘটনায় পুলিশ ব্যাগের সূত্র ধরে তদন্ত করছে। অস্থায়ী চা বিক্রেতার অদৃশ্য হওয়ায় তাঁকে খুঁজছেন তারা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালনের তিরোধান দিবস অনুষ্ঠানে রেখে যাওয়া টাইম বোমা নিষ্ক্রিয় করার ঘটনায় পুলিশ তদন্তের নতুন ধারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাগের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্থায়ী চা বিক্রেতার খোঁজে পুলিশ বেরিয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে এই চা বিক্রেতার কোনো দেখা মিলেনি, যা তদন্তকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল লালনের আখড়াবাড়িতে, যা টাইম চালু অবস্থায় ছিল। বোমাটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল রিচার্জেবল ব্যাটারি, তার, সার্কিট, আতশবাজি ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি।
- 📌 বোমা তৈরির সময়কাল ধারণা করা হচ্ছে রাত ১০টার পর থেকে ১২টার মধ্যে। সিসিটিভি ক্যামেরার বিশ্লেষণ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 চা বিক্রেতা ঘটনার পর থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। পুলিশ তাঁকে খুঁজছেন। তাঁর সাথে ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 ব্যাগের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত করছে। ব্যাগটি ছিল পাশ্ববর্তী জেলার একটি মিষ্টির দোকানের।
- 📌 বোমায় কোনো স্প্লিন্টার পাওয়া যায়নি, তবে পেট্রলে আগুন ধরাতে এবং তা ছড়িয়ে দিতে টাইমিং করা হয়েছিল।
- 📌 কুমারখালী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ফকির লালন শাহর তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনের অনুষ্ঠান গতকাল সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের সময় রোববার রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে একটি ব্যাগে বোমা থাকার খবর পেয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরদিন সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের (এসআরইউ) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। ঘটনার পর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে। আখড়াবাড়ি দ্রুত ফকির-সাধুশূন্য হয়ে যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোমাটি তৈরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদির মধ্যে রয়েছে একটি রিচার্জেবল ব্যাটারি, তার, একটি সার্কিট, দুটি আতশবাজি ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি। পুলিশের ধারণা, সার্কিটে নির্ধারণ করা সময়ে আতশবাজি ফেটে পাশে থাকা পেট্রলের বোতলে আঘাত করতে পারত। এতে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত। দগ্ধ ও হুড়োহুড়িতে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল।
রোববার রাত সাড়ে ১১টার পর ব্যাগ দেখে চা বিক্রেতার প্রথমে সন্দেহ জাগে। পুলিশ জানতে পারে যে, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কেউ ব্যাগ খুলতে গেলে তারের সংযোগ আলাদা হয়ে পড়ে। এ কারণে বিস্ফোরণ ঘটেনি। ঘটনার পর থেকে সেখানে যে চা বিক্রেতা ছিলেন, তাঁকে আর দেখা যায়নি। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, স্থানীয়ভাবে এই বোমা তৈরি করা হয়েছে। যাঁরা লালনের মতাদর্শ পছন্দ করেন না বা বিরোধী, তাঁদের কেউ এই কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
"সেখানে কোনো স্প্লিন্টার পাওয়া যায়নি। তবে পেট্রলে আগুন ধরাতে এবং তা ছড়িয়ে দিতেই টাইমিং করা হয়েছিল। ভয়াবহ হতো যদি বিস্ফোরণ ঘটত। আগুন আখড়াবাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ত। এতে দগ্ধ হতো মানুষ। হুড়োহুড়িতেও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমারখালী, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়সাল মাহমুদ (কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র), দেলওয়ার হোসেন (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ভেড়ামারা সার্কেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫টি বডি-অর্ন ক্যামেরা, রাত ১০-১২ টা, সাড়ে ১১ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!