📌 কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিশানকে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে। দুজন গ্রেপ্তারির জবানবন্দি ও সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা ও নেপথ্য ব্যক্তিদের নাম উন্মোচিত হয়েছে
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিশানকে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দুজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের জবানবন্দি থেকে হত্যার পেছনের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিশান (ছাত্রদল নেতা) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে নিহত হন।
- 📌 গ্রেপ্তার দুজন আসামি — আনোয়ার হোসেন (৫০) ও জিসাত মিয়া (২৯) — জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অংশ নেওয়ার কথা।
- 📌 হত্যার মূল অর্থদাতা হিসেবে রেজিয়া সুলতানা ও তার পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করা হয়েছে।
- 📌 হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নোয়াহ মাইক্রোবাস ও একটি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।
- 📌 হত্যার পরিকল্পনা ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় জিশানকে সাদা নোয়াহ গাড়িতে করে অপহরণ করে হত্যা করা।
- 📌 মামলায় ৭ জন আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে রেজিয়া সুলতানার ভাই মিজানুর রহমান (বিদেশে অবস্থানরত)।
📰 বিস্তারিত
চকরিয়া থানার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার মূল অর্থদাতা হিসেবে রেজিয়া সুলতানার নাম উঠে এসেছে। তিনি জিশানের সঙ্গে ব্যবসার জন্য টাকা দিয়েছিলেন, পরে টাকার বিনিময়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর রেজিয়ার ভাই মিজানুর রহমান (বিদেশে) জিশানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আনোয়ার হোসেনকে ভাড়া করা হয়েছিল। তিনি পাঁচ-ছয় জন খুনিকে সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব পান। তবে পুলিশ এখনও সবার নাম প্রকাশ করেনি। পুলিশের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার সময়সূচী ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় জিশানকে সাদা নোয়াহ গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় জিশানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। জিশান ছিলেন কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
মামলায় জিশানের বড় ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় রেজিয়া সুলতানা, তাঁর ভাই নাজেম উদ্দিন, স্ত্রী পপি আকতার, ভাই মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জকরিয়া, মিনহাজ উদ্দিন এবং তাদের নিকটাত্মীয় এ কে তারেকসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
"আনোয়ার হোসেনের জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও ‘কিলিং মিশনে’ অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিসাত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চকরিয়া উপজেলা, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিশান (নিহত), আনোয়ার হোসেন (৫০), জিসাত মিয়া (২৯), রেজিয়া সুলতানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ সেপ্টেম্বর (অপহরণ), ৩০ সেপ্টেম্বর (মরদেহ পাওয়া), ২৯ সেপ্টেম্বর (মামলা দায়ের), ৫০ (আনোয়ার হোসেনের বয়স), ২৯ (জিসাত মিয়ার বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!