📌 বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় ছেলেশিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত ঘটছে। একটি পরিবার তাদের সাত বছর বয়সী সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর পর ছয় মাসের মধ্যে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌন নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও বিচার পাওয়ার পথে বাধা রয়েছে
বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় ছেলেশিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত ঘটছে। একটি পরিবার তাদের সাত বছর বয়সী সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর পর ছয় মাসের মধ্যে শিশুটি মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌন নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও বিচার পাওয়ার পথে বাধা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাত বছর বয়সী শিশু কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর ছয় মাসে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তার পরিবার জানান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌন নির্যাতনে জড়িত ছিলেন।
- 📌 শিশুটি মাদ্রাসার 'বড় হুজুর'কে গিয়ে অভিযোগ জানালেও হুজুর তাকে মারধর করে শপথ করিয়ে দেন যে, পরিবারকে জানাবেন না।
- 📌 ২৬ আগস্ট মামলা দায়ের করা হলেও মাদ্রাসায় ১০ জন আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে আছেন, দু'জন জামিনে এবং তিনজন পলাতক।
- 📌 মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের মারধর ও যৌন নির্যাতন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্র সুরক্ষা কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ২০০৩ সালেও একটি কওমি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী একটি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
📰 বিস্তারিত
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিবরণে, একটি বেসরকারি চাকুরিজীবী পরিবারের পিতা মি. বাশার (ছদ্মনাম) জানান, তাদের সাত বছর বয়সী সন্তানকে ছয় মাস আগে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো হাফেজ বানানো। কিন্তু সেখানেই শিশুটি মারাত্মক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। মি. বাশার বলেন, "আমার ছেলে একেবারে নাম ধরে ধরে সব বলেছে। কে তাকে টয়লেটে নিয়েছে, কে তাকে বিছানায় নিয়েছে, কোন হুজুর কী করেছে, সবকিছু সে বলেছে।"
পরিবারের অভিযোগ, তাদের শিশু সন্তানের উপর যৌন নির্যাতনের শুরু হয়েছিলো মাদ্রাসার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে। পরে শিক্ষকও নির্যাতনে অংশ নেন। শিশুটি যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচতে মাদ্রাসার একজন 'বড় হুজুরকে' গিয়ে অভিযোগ জানায়। কিন্তু হুজুর তাকে মারধর করে শপথ করিয়ে দেন যে, পরিবারকে জানাবেন না। মি. বাশার বলেন, "হুজুরকে আমার ছেলে গিয়ে বলে যে, আমার কাপড় খুলে খারাপ কাজ করেছে। তখন হুজুর উল্টা ছেলেটাকে বেশ কয়েকটি মার মেরেছে। বলেছে এই কথা যেন চার দেয়ালের বাইরে না যায়। মাথায় কোরআন শরীফ দিয়ে শপথ করিয়েছে যেন বাবা-মা'কেও না জানায়।"
মি. বাশার জানান, শিশুটি ভয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়নি। কিন্তু এর ফলে তার পরবর্তী দিনগুলো আরো ভয়াবহ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, "ওরা তো ছাত্র-শিক্ষক সবাই হরিলুট করছে আমার ছেলেকে। ওকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমার ছেলে বলেছে যে, ভর্তির পর প্রথম বিশ দিন সে ভালো ছিলো। এরপর কোন রাতেই সে আসলে ভয়ে ঘুমাতে পারেনি। ওই হুজুরকে রাতে উঠতে দেখলেই আমার ছেলে তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বড় হুজুরের বেডের নিচে গিয়ে ঢুকে থাকতো।"
২৬শে আগস্ট মামলা দায়ের করা হলেও মাদ্রাসায় ১০ জন আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে আছেন, দু'জন জামিনে এবং তিনজন পলাতক। মি. বাশারের স্ত্রীও এই ঘটনার কারণে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, "আমার ছেলে প্রতিটা রাত যে কষ্টটা করেছে, ছয় মাস তো দূরের কথা সারা দুনিয়া আমার হাতে এনে দিলেও আমি একটা রাতকেও মানতে পারবো না।"
এই ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কওমি মাদ্রাসায় ছেলেশিশুর উপর যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এমন নির্যাতন কওমি মাদ্রাসাগুলোতে কতটা বিস্তৃত এবং এগুলো সেভাবে প্রকাশ্যে আসে না কেন?
"আমার ছেলে একেবারে নাম ধরে ধরে সব বলেছে। কে তাকে টয়লেটে নিয়েছে, কে তাকে বিছানায় নিয়েছে, কোন হুজুর কী করেছে, সবকিছু সে বলেছে।"
"ব্যাপারটা এতো মর্মান্তিক যে, আমার ছেলে অনেক কান্না করেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় আমার ছেলেটা বিছানায় শুয়ে ছিলো। এমন অবস্থাতেও আধাঘণ্টা পর এসে আবার নির্যাতন করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (স্থানীয় কওমি মাদ্রাসা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মি. বাশার (ছদ্মনাম), সাত বছর বয়সী শিশু, মাদ্রাসার 'বড় হুজুর'
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জন আসামি, ৫ জন কারাগারে, ২ জন জামিনে, ৩ জন পলাতক, ৬ মাসের নির্যাতন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!