📌 বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। গত তিন মাসে ১৩ জন ছেলে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে
বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। গত তিন মাসে মাত্র ১৩ জন ছেলে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এই ঘটনাগুলোকে রোধে সরকারের যথেষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কমপক্ষে ১৩ জন ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
- 📌 বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ।
- 📌 সরকারি নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবের কারণে যৌন নির্যাতনের ঘটনা থামছে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
- 📌 শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মাদ্রাসায় ভর্তি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন।
- 📌 মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেছেন, যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে প্রায় সবাই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
📰 বিস্তারিত
ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আক্কাস আলী (ছদ্মনাম) তার একমাত্র ছেলেকে কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেছেন, “যেহেতু একটাই পোলা, সেই কারণে ভাবছিলাম যে, হেরে হাফেজ বানামু। কিন্তু প্রতিদিন যা দেখতাছি, আর যা শুনতাছি; তাতে মাদ্রাসায় পড়ানোর ইচ্ছাডাই চলে গেছে। কারণ আমি চাই না, আমার পোলার লগে এসব ঘুটক।”
গত কয়েক মাসে কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, শুধুমাত্র গত অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কমপক্ষে ১৩ জন ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছে কওমি মাদ্রাসার ছেলে শিক্ষার্থীদের।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেছেন, “কওমি মাদ্রাসাগুলো যে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের অধিকার কতটুকু রক্ষিত হচ্ছে, সেটার ওপর সরকারের যথেষ্ট নজরদারি নেই। ফলে যৌন নির্যাতনের মতো সমস্যা রয়ে গেছে।”
অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবের কারণে এই ঘটনাগুলো থামছে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ইসলামি পণ্ডিতদের অনেকে বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
"যৌন নির্যাতনের শিকার এসব শিশুদের মধ্যে প্রায় সবাই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, যা খুবই উদ্বেগের বিষয়,"
কওমি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেছেন, “এগুলো নতুন কিছু নয়। এই সমস্যা আগেও ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন করে রাখা হত যে, সেটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ সেভাবে ছিল না।”
ফিরোজ করিম (ছদ্মনাম) বলেছেন, তিনি প্রায় দুই যুগ আগে মাত্র সাত বছর বয়সে কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। মাদ্রাসায় ভর্তির কিছুদিন পরেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তিনি বলেছেন, “ছাদে একটা রুম ছিলো খাদেমদের। সেখানে খাট ছিলো। তিনজন ছাত্র আমার দুই হাত দু'দিকে বেঁধে ফেলে। ওরা তিনজনই আমাকে বেঁধে রেখে তাদের মনোবাসনা পূরণ করে।”
এই ঘটনার পর তিনি এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, পড়াশোনায় মন দিতে পারছিলেন না। পরিবার তাকে অন্য একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়েছিল। সেখানে তিনি আবারও যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এইবার একজন শিক্ষক তাকে নির্যাতন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “উনি আমাকে সেভেনআপের সঙ্গে কিছু একটা মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। হুজুরের রুমে এটা খাওয়ার পর আমার আর কিছু মনে নেই। পরবর্তীতে আমি যখন জেগে উঠি, তখন নিজেকে আবিস্কার করি আমার বিছানায়। এবং আমার পেছনে বেশ আঘাতপ্রাপ্ত।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (যাত্রাবাড়ি এলাকা), বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আক্কাস আলী (ছদ্মনাম), সাইদুর রহমান (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক), ফিরোজ করিম (ছদ্মনাম), সাজেদুল ইসলাম (কওমি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন (যৌন নির্যাতনের শিকার শিশু), ২৫ হাজার (কওমি মাদ্রাসা), ৭০ লাখ (শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!