📌 নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডি ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে। এতে প্রধান নাথান বমসহ মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, গোলাম আজমসহ আরও ৭ জনের নাম রয়েছে। ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডি ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে। এতে সংগঠনের প্রধান নাথান বমসহ মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, মো. গোলাম আজমসহ আরও ৭ জনের নাম রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সিআইডি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা: কেএনএফের ইউনিফর্ম অর্থায়নে নাথান বমসহ মংহলাসিন মারমা, নিয়াজ হায়দার, গোলাম আজমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।
- 📌 ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন: অনুসন্ধানে ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের ফ্যাব্রিক ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 সন্ত্রাসী কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে: সিআইডি দাবি, অর্থের উৎস ও প্রবাহ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ইউনিফর্ম তৈরির উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার।
- 📌 গত ৭ অক্টোবর মামলা: বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
- 📌 ২০ হাজার ৩০০ সেট ইউনিফর্ম উদ্ধার: চট্টগ্রামের একটি গুদাম ও পোশাক কারখানায় থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়।
📰 বিস্তারিত
সিআইডি অনুসন্ধানে জানিয়েছে, গত ১৮ মে রাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি গুদাম ও পোশাক কারখানায় থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়।
সিআইডি জানায়, মংহলাসিন মারমা ওরফে মং কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়াজ হায়দারের মাধ্যমে মো. গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্মের ফ্যাব্রিক তৈরির ব্যবস্থা করেন। মংহলাসিন নিজে এমআই এন্টারপ্রাইজের সহকারী বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি ক্রয়াদেশ দাখিল করেন। এসব কাজের বিপরীতে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
সিআইডি আরও জানায়, ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের শার্ট ও প্যান্ট সেলাইয়ের জন্য মংহলাসিনের নির্দেশনায় নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজম রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেলাই বাবদ প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সিআইডি দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদ অর্থের মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেন হয়েছে।
"কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্যরা সংগঠনটির জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেছেন। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (বায়েজিদ বোস্তামী, মোজাফফরনগর, হালিশহর, ছোটপুল), ঢাকা (সচিবালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাথান বম, মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, মো. গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম, মো. মতিউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ জন আসামি, ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্ম, ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, ২০ হাজার ৩০০ সেট উদ্ধার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!