📌 কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক আটক অভিযানে একই আইনের আওতায় কারাদণ্ড পেয়েছেন একজন, আর তিনজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা ইউএনওর সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকসহ আটক অভিযানে একই আইনের আওতায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। মাদক সেবনের কথা স্বীকার করা দুই ব্যক্তিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্যদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুলিয়ারচরে মাদক আটক অভিযানে ৫০০ গ্রাম মদ ও ১১টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়, কিন্তু মাদক সেবন স্বীকারকারী দুই ব্যক্তিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়
- 📌 ইসমাইল মিয়া (৫০) ছয় মাস কারাদণ্ড পেয়েছেন, কিন্তু তার স্ত্রী বকুলা বেগম (৩৫) ও মাদক সেবন স্বীকারকারী সানি (২৭) ও সিয়াম (১৮) মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়
- 📌 মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ও ৭(৩) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের দণ্ড বা অব্যাহতি দেওয়ার বিধান থাকলেও সিদ্ধান্তের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
- 📌 অভিযানে আটক অপর চারজনকে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাদক সেবন স্বীকারকারী সিয়াম ও সানিকে মদ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়, কিন্তু তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গত বুধবার রাতে বিশেষ অভিযানে মাদক সেবন ও রাখার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়। পুলিশের তথ্য মতে, পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের সিয়াম (১৮) ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সানি (২৭) থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম মদ ও বোতল উদ্ধার করা হয়। তাঁরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করলে উদ্ধার করা মদ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া (৫০) ও তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগম (৩৫) বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাঁদের ঘর থেকে ১১টি ইয়াবা বড়ি ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ইসমাইল মিয়াকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী বকুলাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ স্বীকার করলে তা লিপিবদ্ধ করে উপযুক্ত দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ৭(৩) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় সিয়াম ও সানিকে কোন আইনগত বিধানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বকুলাকে অব্যাহতি দেওয়ার ভিত্তি কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযানে আটক অপর চারজনকে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘মোবাইল কোর্টে ইউএনও স্যার ইসমাইল মিয়াকে কারাদণ্ড দেন এবং তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ক্ষমা করে দেন।’
এই ঘটনার সাথে জড়িত ইসমাইল মিয়া (৫০) দুপুর আড়াইটার দিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রোগীর জন্য হাসপাতালের ট্রলিতে তোলার পর তাঁকে কৌশলে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। হাসপাতালের ট্রলিম্যান অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও তাঁদের খোঁজ না পাওয়ায় মেডিকেল অফিসার ও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের জানান...
"মোবাইল কোর্টে ইউএনও স্যার ইসমাইল মিয়াকে কারাদণ্ড দেন এবং তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ক্ষমা করে দেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ, পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, ইসমাইল মিয়া (৫০), বকুলা বেগম (৩৫), সিয়াম (১৮), সানি (২৭)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ গ্রাম মদ, ১১টি ইয়াবা বড়ি, ৬ মাস কারাদণ্ড, ১০০০ টাকা জরিমানা, ৭ দিন কারাদণ্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!