📌 দেশের ৮টি মহানগর ও ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে কিশোর গ্যাং। ২৩ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে ২ হাজার ৬২৫ সদস্যের তথ্য প্রকাশ করে পুলিশ। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় অভিযোগে পুলিশ অভিযান জোরদার করেছে।
দেশের কিশোর গ্যাং সদস্যরা ২৩ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের গবেষণায় দেখা গেছে, আটটি মহানগর ও ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এই অপরাধী গ্যাং। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২৪টি মামলায় ৩০৭টি কিশোর গ্যাংের ২ হাজার ৬২৫ সদস্য অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৩ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে ২ হাজার ৬২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য** — ধর্ষণ, হত্যা, সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধে তারা জড়িত।
- 📌 **৮টি মহানগর ও ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে গ্যাং** — চট্টগ্রামের খুলশীতে ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংের মধ্যে বিরোধে এক কিশোরের হত্যা ঘটে।
- 📌 **পুলিশের অভিযানে ৩ হাজার ৮৪৪ জন আটক** — ২১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মাত্র ১০ দিনে গ্রেপ্তার করা হয় এই সংখ্যক কিশোর।
- 📌 **রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় অভিযোগ** — স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের দিয়ে জমি দখল ও হামলা চালানোর অভিযোগে পুলিশের নজর।
- 📌 **বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওয়াকিল হোসেন বগা** — গত জুনে গোলাগুলির ঘটনায় বহিষ্কৃত হলেও তিনি ‘সেভেন স্টার’ গ্যাং পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পুলিশের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিশোর গ্যাং সদস্যরা দলবদ্ধভাবে অপরাধ করে। এসব গ্যাংয়ের পেছনে স্থানীয় বড় সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামে দুটি গ্যাংের মধ্যে বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে এক কিশোরের হত্যা ঘটে। নিহত হৃদয় তার বাবার সঙ্গে ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করতেন। এই ঘটনায় ছয় কিশোরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা নিহত হৃদয়কে হত্যা করেছিল।
‘সেভেন স্টার’ গ্রুপ পরিচালনার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা ও তার ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম পিচ্চির নাম এসেছে। অন্যদিকে ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় বিজয়, কামরান ও শান্ত। গত জুনে গোলাগুলির ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত ওয়াকিল হোসেন বগাকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধ।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এই ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার কিশোরেরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ধরন পর্যালোচনা করে অভিযান জোরদার করেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে জমি দখল করতে গেলে কিশোর গ্যাং সদস্যরা হামলা চালায়। এই ঘটনায় মোস্তাকুর রহমান খোকন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির নাম এসেছে, যিনি স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে এই হামলা চালানোর অভিযোগে পুলিশের নজরে পড়েছেন।
"কিশোরদের কারা এই গ্যাং কালচারে নিয়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। ‘গডফাদাররা’ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়; তাই তাদের কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, তা খুঁজে বের করা জরুরি।"
— জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (খুলশী), কুমিল্লা, রাজধানী ঢাকা (মোহাম্মদপুর), লক্ষ্মীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াকিল হোসেন বগা, কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার, মো. আব্দুর রহিম (ওসি), ওয়াহিদ পারভেজ (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ ধরনের অপরাধ, ৬৪ জেলা, ৩০৭টি গ্যাং, ২ হাজার ৬২৫ সদস্য, ১৭টি মামলা, ৩ হাজার ৮৪৪ জন আটক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!