📌 ঢাকার কাফরুল থানায় ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলামকে মুক্তিপণ আদায়ের সময় হত্যা করা হয়। মামুন সরকার নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার সহায়তায় নীলফামারীতে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তদন্ত চলছে
১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ঢাকার কাফরুল থানায় মুক্তিপণ আদায়ের সময় রাকিবকে হত্যা করা হয় এবং তার মরদেহ নীলফামারীতে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকারীর নাম মামুন সরকার (২৪)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলামকে ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তিপণ আদায়ের সময় হত্যা করা হয় এবং তার মরদেহ ১৭ সেপ্টেম্বর নীলফামারীতে গোপনে দাফন করা হয়।
- 📌 মামুন সরকার (২৪) নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার সহায়তায় ৫ অক্টোবর রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- 📌 রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশের তদন্তে মামুন সরকারের জড়িতপড়া প্রমাণিত হয়।
- 📌 মামুন সরকার জানান, তিনি রাকিবকে শুক্রাবাদে নিয়ে যান এবং মুক্তিপণ আদায়ের সময় ধস্তাধস্তিতে রাকিবের ঘাড় ভেঙে হত্যা করেন।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহটি গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নীলফামারীতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডিমলায় গর্ত করে দাফন করা হয়।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবকে বাসার বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আর মেসে ফিরেননি।
রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মামুন সরকার। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা দেন। রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় প্রথমে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুন সরকারকে শনাক্ত করা হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন সরকার পুলিশকে বলেছেন, তিনি কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নেন তিনি। পরে তাঁকে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হলে মামুন রাকিবের ঘাড় ভেঙে হত্যা করেন।
হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশায় করে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান মামুন সরকার। পরে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় যান। ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ির সামনের সুপারি বাগানে গর্ত করে কার্টনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেন তিনি। মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডিমলা থানা-পুলিশের সহায়তায় কার্টনভর্তি রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জীবন মরদেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
"হত্যাকাণ্ডের শিকার রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকত। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য সে ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে বাসার বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সে আর মেসে ফেরেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কাফরুল, শুক্রাবাদ, শেওড়াপাড়া), নীলফামারী (ডিমলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রাকিবুল ইসলাম, মামুন সরকার, জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর, ২৪ বছর, ১৬ সেপ্টেম্বর, ৪ টা, ১৫ লাখ টাকা, ৪ লাখ টাকা, ৫ অক্টোবর, ১৭ সেপ্টেম্বর, ৩ টা, ১৮ ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!