📌 খুলনা সিএমএম আদালতে প্রতি বিচারকের কাঁধে ৬ হাজার মামলা জমা থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিচারক কম থাকায় মামলার সংখ্যা ১৯ হাজারেরও বেশি এবং ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে
খুলনা সিএমএম আদালতে বিচারক সংকটের কারণে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হচ্ছে। খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতি বিচারকের কাঁধে ৬ হাজার মামলা জমা থাকায় বিচারকার্য পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা সিএমএম আদালতে মোট ১৯ হাজার ৪৬টি মামলা বিচারাধীন, যার মধ্যে ৬ হাজার মামলার বিচারকাজ করে একজন বিচারক
- 📌 গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬২টি গুরুত্বপূর্ণ মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৪২৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে
- 📌 খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য আ. মালেক বলেছেন, বিচারকের সংকটে বাদী ও বিবাদী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন
- 📌 আইনজীবী মোমিনুল ইসলামের মতে, মামলার দীর্ঘসূত্রতা ন্যায়বিচারের বিপরীত এবং প্রভাবশালী আসামিরা সাক্ষীদের আদালতে আসতে বাধা দেয়
- 📌 শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালেও বিচারকের সংখ্যা ও এজলাসের অভাবে মামলার দীর্ঘসূত্রতা বাড়ছে
📰 বিস্তারিত
খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক সংখ্যা কম থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। খুলনা সিএমএম আদালত সূত্র জানায়, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৪৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২ হাজার ৫৬২টি মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৪২৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন থানা থেকে নতুন মামলা আসায় আদালতে মামলার সংখ্যা বাড়ছে।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য আ. মালেক বলেন, বিচারক কম থাকায় বাদী মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাসময়ে দিতে পারেন না। অন্যদিকে আসামিরা দীর্ঘদিন আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা করলে তাদের আর্থিক ও সময়ের ক্ষতি হয়। আইনজীবী মোমিনুল ইসলামের মতে, মামলার দীর্ঘসূত্রতা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। মামলা তদন্তের সময়টা অনেক বেশি হয়ে যায়। সময়সাপেক্ষ হওয়ায় মামলা ট্রায়ালে আসতে সময় লেগে যায়। চার্জ গঠনের পর সাক্ষীদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হয় এবং তারা আদালতকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
আদালত সূত্র জানায়, বিচারক বদলি হওয়ার কারণে শুধু মামলার বিচারকাজ বিলম্ব হচ্ছে, এমনটা নয়। এক বিচারক চলে যাওয়া এবং আরেকজন বিচারক এসে নতুন করে কাজ শুরু করতেও সময় লেগে যায়। খুলনার আদালতপাড়ায় বিচারব্যবস্থার আরেকটি বড় সংকট হলো বিচারকের সংখ্যার তুলনায় আদালতের কক্ষ অনেক কম। এ কারণে আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ৬টি আদালত রয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আর দুজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের বদলির কারণে বিচারালয় শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, আদালতগুলোতে মামলার সংখ্যা ১৯ হাজারের বেশি। এসব মামলা মাত্র তিনজন বিচারকের পক্ষে সামাল দেওয়া খুবই কঠিন।
"আদালতে বিচারকের সংকট থাকলে বাদী ও বিবাদী উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাদী মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাসময়ে দিতে পারেন না। অন্যদিকে আসামিরা দীর্ঘদিন আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা করলে তাঁদের আর্থিক ও সময়—উভয়ের ক্ষতি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা সিএমএম আদালত, খুলনা জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তপন কুমার সাহা (আদালত কর্মকর্তা), আ. মালেক (আইনজীবী), মোমিনুল ইসলাম (আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ হাজার ৪৬টি মামলা, ৬ হাজার মামলা/বিচারক, ২ হাজার ৫৬২টি গুরুত্বপূর্ণ মামলা, ৪২৬টি নিষ্পত্তি মামলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!