📌 নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম (৪৮) জামিনে বেরিয়ে বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্কে বসবাস করছে
নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম (৪৮) জামিনে বেরিয়ে বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশে গত মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি নাজিরপুরে সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভীতির মধ্যে ফেলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফিরোজুল ইসলাম জামিনে বেরিয়ে বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন: ‘নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে’
- 📌 ফিরোজুল ইসলামের সমর্থকদের বহর নিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়; উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও বিএনপি কর্মীদের উপস্থিতি
- 📌 ধর্ষণ মামলায় ২০২২ সালের ১ অক্টোবর নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গ্রেপ্তার করা হয়
- 📌 রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কৌন্সুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ধর্ষণ প্রমাণে যাবজ্জীবন এবং অপহরণে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল
- 📌 ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্কে বসবাস করছে; থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে
- 📌 ফিরোজুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন
📰 বিস্তারিত
ফিরোজুল ইসলামের জামিনে মুক্তির পর নাজিরপুরে এক সভায় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘চারজনের সাক্ষীতে যদি আমার যাবজ্জীবন জেল দেয়, তাহলে এখানে কয়েক হাজার লোক আছে, এরা সবাই সাক্ষী দিচ্ছে। বিচার হবে। বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি এই নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে।’ এই বক্তব্য একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ও মামলার বাদী জানান, ‘জামিনে এসেই তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার করার হুমকিও দিয়েছেন। এতে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে বসবাস করছি। বিষয়টি থানায়ও জানিয়েছি।’
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ফিরোজুল ইসলাম বিএনপির সক্রিয় নেতা ছিলেন। একসময় উপজেলার দায়িত্বশীল পদে থাকলেও নানা বির্তকের কারণে পদ হারান তিনি।
রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কৌন্সুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রধান শিক্ষক ফিরোজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ প্রমাণ হওয়ায় যাবজ্জীবন এবং অপহরণের ঘটনায় পৃথক একটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু আপিলে আসামি ফিরোজ মুক্তি পাওয়ায় বাদীর পরিবারে ভীতি তৈরি হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে অন্যায়ভাবে হুমকি দেওয়া হলে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"চারজনের সাক্ষীতে যদি আমার যাবজ্জীবন জেল দেয়, তাহলে এখানে কয়েক হাজার লোক আছে, এরা সবাই সাক্ষী দিচ্ছে, প্রতিপক্ষরা কী করেছে। বিচার হবে। বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি এই নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাজিরপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিরোজুল ইসলাম (৪৮), মুন্সি আবুল কালাম আজাদ, মো. আমজাদ হোসেন, আব্দুল হান্নান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ বছর, ১০ বছর কারাদণ্ড, ১৩৬ কোটি টাকা (সোনাহাট সেতু প্রকল্প)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!