📌 জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-২-এ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। প্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরকে বেসামরিক নেতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিচারিক প্যানেলের সামনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন তাদেরকে সর্বোচ্চ দণ্ডের দাবি জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার মামলায় সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন।
- 📌 প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেছেন, হানিফ সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে টেলিফোনে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছিলেন।
- 📌 হানিফের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যানদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগের রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে।
- 📌 আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 চার আসামির মধ্যে হানিফ ছাড়া অন্যরা হলেন সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী ও আতাউর রহমান আতা। সবাই বর্তমানে পলাতক।
- 📌 মামলাটি ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। যুক্তিতর্ক শেষে তিনি জানান, হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের যুক্তিতর্ক আগে শেষ হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং চার আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, মাহবুবউল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি অধীনস্তদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রসিকিউশন বলেছে, হানিফকে বেসামরিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে নির্দেশনা ও টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি আন্দোলন দমনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।
প্রসিকিউটর তামিম আরও জানান, হানিফের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। সেই নজিরের ভিত্তিতে হানিফের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
"হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের যুক্তিতর্ক এর আগে শেষ হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং চার আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে।"
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১০ জুন যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণ দাখিলের কারণে পুনরায় যুক্তিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া জেলা, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-২
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহবুবউল আলম হানিফ, সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমান আতা, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ অক্টোবর, ১০ জুন, ৬ অক্টোবর ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!