📌 কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতের মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্টে আন্তর্জাতিক স্ক্যাম চক্রের ঘাঁটি ছিল। চীন ও তাইওয়ানের ৪০০-এরও বেশি সদস্য ভারতসহ ৯টি দেশের ধনী ব্যক্তিদের প্রতারণায় লিপ্ত ছিলেন। পুলিশ ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করে, উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম উদ্ধার করে
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি সৈকতের একটি রিসোর্টে আন্তর্জাতিক স্ক্যাম চক্রের ঘাঁটি ছিল। এই রিসোর্টে চীন ও তাইওয়ানের নেতৃত্বে ৪০০-এরও বেশি বিদেশি সদস্য ভারতসহ নয়টি দেশের ধনী ব্যক্তিদের প্রতারণায় লিপ্ত ছিলেন। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), কক্সবাজার জেলা পুলিশ, সিআইডি ও সাইবার পুলিশ সেন্টারের তদন্তে এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান চালিয়ে ৬ জন কক্সবাজার ও ৬৩ জন চট্টগ্রামের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪০০-এরও বেশি বিদেশি সদস্য (চীন ও তাইওয়ানের নেতৃত্বে) বাংলাদেশে স্ক্যাম চক্র গঠন করে। তারা ভারতসহ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও ভারতের ধনী ব্যক্তিদের প্রতারণায় লিপ্ত ছিলেন।
- 📌 মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্ট (কক্সবাজার) ও চট্টগ্রামের ৩টি রিসোর্ট (ড্রিম হলিডে, অর্কিড ব্লু, ইলিয়াস ব্রাদার্স ভবন) এই চক্রের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হত।
- 📌 ৬৯ জন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়, উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
- 📌 ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই চক্র প্রতারণায় কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করেছিল।
- 📌 ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চীনাদের বাংলাদেশে আসার পর তারা কক্সবাজারে ঘাঁটি গড়ে তুলে।
- 📌 পাসপোর্ট ও ভিসা নিবন্ধন না করার কারণে পুলিশের নজর এড়াতে সক্ষম হয়েছিল চক্রটি।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে ১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি সৈকতের মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্টে এই স্ক্যাম চক্রের ঘাঁটি ছিল। এই রিসোর্টের পাশে সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশি এবং সবুজ পাহাড়ের সারি। চক্রের সদস্যরা পুরো রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা ভারতসহ নয়টি দেশের ধনী ব্যক্তি ও সচ্ছল নারীদের টার্গেট করেছিল। তারা নামী কোম্পানির কর্মকর্তা এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদেরও লক্ষ্য করেছিল।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করেছিল। ভারতীয় সাইবার তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশে বসে প্রতারণা চালাত। ভারতীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয় যে, এই চক্রের সদস্যরা ভারতীয় নাগরিকদের প্রতারণায় লিপ্ত ছিল। পরে ভারতীয় সাইবার তদন্তকারীরা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানায়। গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, কক্সবাজারের চারটি রিসোর্টে ২০০ থেকে ২৫০ জন বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছিল।
পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) গত মার্চের শুরু থেকে চীনা নাগরিকদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখতে শুরু করে। তাদের তদন্তে উঠে আসে যে, চীনা নাগরিকেরা কর্মসংস্থান ভিসা বা ই-ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) চীনাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি জানলেও এসবির ফরেন ডেস্ক বা বিদেশি সহায়তা সেল তা জানত না। নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে আসার পর বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসবিতে নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু এই চক্রের সদস্যরা পাসপোর্ট ও ভিসার কপি জমা দেননি। হোটেল-রিসোর্ট মালিকপক্ষও জেলা এসবিকে এই তথ্য জানায়নি।
"মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্ট থেকে চক্রটি ভারতীয় গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের টার্গেট করেছিল। তাদের স্ক্যামিংয়ের শিকার কয়েকজন ভারতীয় বিষয়টি তাদের সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার (হিমছড়ি সৈকত), চট্টগ্রাম (খুলশী), ঢাকা (উত্তরা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), চীনাদের নেতৃত্বে ৪০০+ বিদেশি সদস্য, ভারতীয় সাইবার তদন্তকারী, হোটেল ম্যানেজার (এমদাদুল হক, সঞ্জয় রায়, শোয়েব আলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০+ সদস্য, ৬৯ জন গ্রেপ্তার, ৬ জন কক্সবাজার, ৬৩ জন চট্টগ্রাম, ১২ কিলোমিটার দূরে রিসোর্ট, ২০০-২৫০ জন বিদেশি, ২০-২৫ জন প্রতি হোটেলে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!