📌 ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে একজন স্বামীকে হত্যার পর তার স্ত্রী ও প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ড্রামে সিমেন্ট ঢালাই করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র। স্বামী সৌরভ রাজপুতকে হত্যার পর তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারের ১২৬টি শুনানির পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরাটে স্বামী সৌরভ রাজপুতকে হত্যার পর তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- 📌 হত্যার পর মরদেহের খণ্ডিত অংশ একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামে সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছিল।
- 📌 ২০২৫ সালের ৩ মার্চ ঘটনাটি ঘটে; ১৭ মার্চ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
- 📌 ২২ জনের সাক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করা হয়।
- 📌 হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
📰 বিস্তারিত
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরে নিজেদের বাড়িতে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসকান ও সাহিল। প্রথমে খাবারে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অচেতন করা হয়। পরে সাহিল বাড়িতে পৌঁছালে দুজন মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। হত্যার পর বাথরুমে সৌরভের মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর দেহের খণ্ডিত অংশগুলো একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে তাতে বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে দেওয়া হয়। মরদেহের অস্তিত্ব গোপন করার উদ্দেশ্যে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেন তারা।
ঘটনার পর মুসকান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের বার্তা পাঠিয়ে সৌরভ বেঁচে আছেন এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। তবে স্বজনদের সন্দেহ হলে ১৭ মার্চ তারা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের বলে, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’ পরে পুলিশ ড্রামটি কেটে সেখান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দেন যে, অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি কিনেছিলেন। এছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও টাওয়ারের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে সাহিলের উপস্থিতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
"সৌরভ ভালো মানুষ ছিলেন এবং অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই" — মুসকানের বাবা-মা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরাট, উত্তর প্রদেশ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুসকান রাস্তোগি, সাহিল শুক্লা, জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৬টি শুনানি, ২২ জন সাক্ষী, ৩ মার্চ ২০২৫, ১৭ মার্চ ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!