📌 ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইমাম হাসান তাইমের হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ১১ আসামির মধ্যে দুজন কারাগারে, বাকি পলাতক। পরবর্তী শুনানি ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইমাম হাসান তাইমের হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপনের পর পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয় ২৫ অক্টোবর। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয় পরবর্তী যুক্তিতর্কের তারিখ
- 📌 ১১ আসামির মধ্যে ২ জন কারাগারে, বাকি ৯ জন পলাতক
- 📌 ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইমাম তাইমের হত্যা ঘটে
- 📌 মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন, ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন
- 📌 ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু হয়
- 📌 ১৫ জুন থেকে শুরু হয় তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জবানবন্দি গ্রহণ
📰 বিস্তারিত
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। প্রসিকিউশন পক্ষের প্রধান যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি মামলার পটভূমি তুলে ধরেন এবং ইমাম হাসান তাইমকে কীভাবে ও কোথায় হত্যা করা হয়েছিল তার বিবরণ দেন। তবে যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৫ অক্টোবর।
মামলায় ১১ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত আলী। অন্যদিকে, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা বিভাগের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন এবং নিরস্ত্র এসআই সাজ্জাদ উজ জামান।
মামলায় গত ১৫ জুন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়। পরদিন ১৬ জুন তিনি ২৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। পরে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছিল। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২৯ মার্চ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি করে ইমাম হাসান তাইমকে হত্যা করা হয়। এ সময় তাইমকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতের ওপরও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়া, উসকানি ও প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
"তাইমকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার বিবরণ দিয়েছি। এছাড়াও মামলার পটভূমি তুলে ধরেছি।" — প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মিজানুল ইসলাম, ইমাম হাসান তাইম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ আসামি, ২ জন কারাগারে, ৯ জন পলাতক, ২৫ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!